ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর ষষ্ঠ শ্রেণির এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরী ২৭ সপ্তাহের বেশি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে এবং শিশু পরিবারের পাশের বাজারে একটি দর্জির দোকানের মালিক।
এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সরকারি শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, কিশোরীটি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় সে অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হওয়ার পর ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও সরকারি শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে গত ৬ জুলাই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীটি শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। শিশু পরিবার থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখ তাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া পরবর্তী সময়ে তিনি কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ফলে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে গত ৬ জুলাই তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষার পর জানান, সে ২৭ সপ্তাহ ২ দিনের অন্তঃসত্ত্বা।
মামলার পর গত ৮ জুলাই পুলিশ অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এদিকে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে গত ৮ জুলাই সমাজসেবা অধিদপ্তর সরকারি শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন— সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার এবং আয়া শামসুন্নাহার আক্তার ও তানিয়া তাজরীন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপসচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গত ৮ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে কিশোরীটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন নারী ও শিশু-কিশোরী হেফাজতিদের আবাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।’
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’