শরীয়তপুরে পদ্মা ও মেঘনা নদীর তলদেশ ভরাটে কমেছে ইলিশ উৎপাদন। বাধাগ্রস্থ হচ্ছে নৌ চলাচলও। অসংখ্য ডুবোচর ও নাব্যতা সংকটের কারণে কমছে ইলিশের বিচরণ। এতে অর্থ ও সময় বেশি লাগায় বেড়েছে পণ্য পরিবহন খরচও। গত ৫ বছরে এই নদীপথে ইলিশ উৎপাদন কমেছে ৮২৩ মেট্রিক টন।
ইলিশ ধরার আশায় প্রতিদিন ভোরে শরীয়তপুরের পদ্মা-মেঘনায় নামে হাজার হাজার জেলে। তবে মিলছে না আশানুরূপ ইলিশ। যে মাছ ধরা পড়ছে, তাতে নৌকার জ্বালানি, শ্রমিকের মজুরি কোনোটাই উঠছে না।
কয়েক বছর আগেও এই নদীতে জাল ফেললেই উঠতো ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। গত পাঁচ বছরে ইলিশ উৎপাদন কমেছে ৮২৩ মেট্রিক টন। এখন নদীর গভীরতা কমেছে, বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ডুবোচর। ফলে বদলে গেছে ইলিশের চলাচলের পথ। আর অসংখ্য ডুবোচরের জন্য বাঁধাগ্রস্থ নৌ চলাচল।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ কিলোমিটার পদ্মা-মেঘনা নদীপথে ইলিশ শিকার করেন জেলেরা। এই অংশেই ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৩০টি ডুবচর রয়েছে। ফলে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে ইলিশ উৎপাদনে।
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ‘নাব্যতা সংকট, নদীতে অবৈধ ড্রেজিং, অতিমাত্রায় ভারী নৌযান চলাচল, দূষণ এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মাছ অন্য নদীপথে সরে যাচ্ছে। তবে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আবারও পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের প্রাচুর্য ফিরতে পারে।’
নদীবেষ্টিত এই জেলায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে এমন জেলের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। তাই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।
নদীতে ডুবোচর পরায় গত পাঁচ বছরে শরীয়তপুরে ইলিশ উৎপাদন কমেছে ৮২৩ মেট্রিক টন।