কিশোরগঞ্জে পানিতে ডুবে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের ৫ উপজেলায় পানিতে ডুবে একদিনে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নিকলী, মিঠামইন, কটিয়াদী, ভৈরব ও করিমগঞ্জ উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলো–নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের নানশ্রী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ হাকিম (৫), গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার এরশাদ নগরের আর-৮ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন (১২), কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি ইউনিয়নের দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের মজলু মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (১১), ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার মো. সোহেল মিয়ার ছেলে শুভ ইসলাম স্মরণ (১২) এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল পেট্রোল পাম্প এলাকার বাসিন্দা ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন (৩৮)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে নিকলী উপজেলার নানশ্রী গ্রামে বাড়ির পাশে বড় ভাই ও আরও কয়েকজন শিশুর সঙ্গে খেলছিল হাকিম। খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় সে। কিছুক্ষণ পর বড় ভাই বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা দ্রুত পুকুর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পানিতে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী এরশাদ নগরের বাইতুল কোরআন কওমি মাদ্রাসার এক শিক্ষক ও প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে মিঠামইনের হাওর এলাকায় ঘুরতে আসেন। হাওর ভ্রমণ শেষে ইসলামপুর ঘাট এলাকায় সবাই একসঙ্গে গোসল করতে নামলে পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যায় মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন।

সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন দীর্ঘ সময় ধরে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলের কাছ থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

মিঠামইন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাইজুল ইসলাম জানান, পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আরিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে দুপুর ২টার দিকে কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের নাঈম মিয়া কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে গ্রামের বিলে গোসল করতে যায়। সাঁতার না জানায় সে একটি বড় প্লাস্টিকের বোতল ভাসমান সহায়তা হিসেবে ব্যবহার করছিল। গোসল শেষে অন্যদের সঙ্গে বাড়ির পথে রওনা দিলেও কিছু দূর গিয়ে তার মনে পড়ে বোতলটি বিলে ফেলে এসেছে। পরে একাই বোতলটি আনতে ফিরে যায়। এ সময় পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে ডুবে যায় সে। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পানিতে ডুবে নাঈমের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা শুভ ইসলাম স্মরণ বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে গোসল করতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। শুক্রবার সকালে তার বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে বিকেলের দিকে জগন্নাথপুর এলাকার নদীতে তার মরদেহ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

ভৈরব থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত ওসি) লিমন বোস বলেন, নিখোঁজের একদিন পর নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সবশেষে শুক্রবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল এলাকার বাসিন্দা ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন পরিবার নিয়ে হাওরে বেড়াতে যান। নৌকায় ভ্রমণের সময় পাশের মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় তার ছোট মেয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে যায়। মেয়েকে বাঁচাতে এক মুহূর্ত দেরি না করে মিলন হাওরের পানিতে ঝাঁপ দেন। তিনি মেয়েকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নিজে তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয় নৌকার মাঝি ও এলাকাবাসী দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর তার মরদেহ উদ্ধার করে।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।