অপরাধের ৫০ হটস্পট

পাঁচ দশকেও থামেনি মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের অন্ধকার জগতের উত্থান ৫ দশক ধরে। অতি ঘনবসতি, রাজনৈতিক প্রশ্রয় আর অপরাধ করে দ্রুত পালানোর সহজ পথ থাকায়, অপরাধীদের আখড়া এই এলাকা। এখনও সক্রিয় রয়েছে ২৫টি কিশোর অপরাধী চক্র। ছিনতাইসহ নানা অপরাধের হটস্পট ৫০টি। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ধারাবাহিকভাবে কমছে মোহাম্মদপুরের অপরাধ।

৮ বর্গকিলোমিটারে ১৫ লাখ মানুষের বাস। কিছু অংশ আবার অতি ঘনবসতিপূর্ণ। একটি অংশ একেবারে নদীর পাড়ে হওয়ায় এলাকা ছেড়ে যাওয়াও সহজ। এমন নানা কারণে ৫০ বছরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর। 

এখানকার অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে মূলত সত্তরের দশকে। নব্বই দশকে উত্থান হয় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের। ২০০১ সালের তালিকায় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর ৪ জনই মোহাম্মদপুরের। কিশোর চক্রের উত্থান ২০০৯ সালে।

ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, তিন রাস্তার মোড় থেকে শুরু করে, চাঁদাবাজি-ছিনতাইয়ের ৫০টি হটস্পট রয়েছে এখানে। সক্রিয় অন্তত ২৫টি কিশোর চক্র।

মোহাম্মদপুরে আলোচিত কিশোর গ্যাং গ্রুপের কিছু হলো– এলেক্স গ্রুপ, সাব্বির গ্রুপ, কবজি কাটা, আনোয়ার গ্রুপ, গাঙচিল গ্রুপ, পাটালি গ্রুপ, কাইল্যা বাদল গ্রুপ, মাহী গ্রুপ, ফরহাদ গ্রুপ, ডইল্লা গ্রুপ, আকবর গ্রুপ, চেতালেই ভেজাল গ্রুপ, টক্কর লও, লেভেল হাই, আমি আলমগীর গ্রুপ, লও ঠেলা গ্রুপ, আশরাফ গ্রুপ, স্টার বন্ড গ্রুপ, ভাইব্বা ল কিং গ্রুপ, ঘুটা দে গ্রুপ, শাওন গ্রুপ, আসলাম গ্রুপ, মাওড়া গ্রুপ, জেব্রা আকতার গ্রুপ, রাফাত গ্রুপ, রক্ত চোষা জনি গ্রুপ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টাউন হল, কৃষি মার্কেট, বাসস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল। আর ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান, মোহাম্মদপুর ঘেষা হাজারিবাগের কিছু এলাকার দখল নিতে চান সানজিদুল ইসলাম ইমন। ইমনের হয়ে মাঠে সক্রিয় কিলার বাদল। 

পুলিশের অভিযানেও হয়েছে হামলা। তারা বলছে, মোহাম্মদপুরে মাদকের সহজলভ্যতা, ভাসমান অপরাধী, বিস্তৃত এলাকা, ঘনবসতির কারণেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন।

র‍্যাব–২–এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, মর্ডান ও কোয়ালিটির চেকপোস্ট করার চেষ্টা করছি। আমাদের চেকপোস্টের সাফল্য ভালো। এ কারণে অপরাধটা দিনে দিনে কমছে।

ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি জুয়েল রানা বলেন, আদাবর–মোহাম্মদপুরে ২০ লাখ জনবল। এই জনবলের জন্য থানা দরকার ১০–১২টা, থানা আছে দুটি। এখানে পুলিশ দরকার ৫ থেকে ১০ হাজার অথচ সবমিলিয়ে পুলিশ আছে ৫০০।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদের ধরতে না পারলে, সন্ত্রাস কমবে না। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যে বা যারা নিয়ন্ত্রণ করবেন; সেটা জনপ্রতিনিধি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় থাকেন; তাদের একটা অংশ এই অপরাধ–অর্থনীতির ভাগবাটোয়ারার একটা অংশীদার।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০ মাসে, এই এলাকায় খুন হন ২৪ জন। সম্প্রতি হত্যা কমলেও, থেমে নেই ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ।