জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন  

নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগে গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফিস্টে’ নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান আহত হয়েছেন।

বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস হলে এ ঘটনা হয়।

জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতুমীর, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বনলতা ও অপরাজিতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ফিস্টের’ আয়োজন করা হয়। তবে খাবার পরিবেশনের পর শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। 

তাদের অভিযোগ, পরিবেশিত খাবার নিম্নমানের ছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁচটি হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় রূপ নেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান উপস্থিত শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং খাবারের মান নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন । এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করে কিলঘুষি মারে। এতে তিনি আহত হন।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং তিতুমীর, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বনলতা, অপরাজিতা হলসহ সব আবাসিক হলে ভবিষ্যতে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তিতুমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাকিউল আলম রানা বলেন, এত নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে, যা মুখে নেওয়াই যায় না। খাবারে দেওয়া অধিকাংশ ডিমই ছিল পচা এবং ডালের মধ্যে মুরগির নাড়িভুঁড়ি পাওয়া গেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার জবাব চাই এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানাই।

স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, খাবারের মান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জেনেছি। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত বলেন, হলের খাবারের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ আমার নজরে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।