গাজীপুরে ২০ ভাগ কারখানায় শনিবার পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা

গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন কারণে গাজীপুরে অন্তত ২০ ভাগ কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত এ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

কারখানা শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, গেল বুধবার সরকারি ছুটি ছিল। এর সাথে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কিছু কারখানায় কয়েকটি সেকশনে কাজ চললেও বাকি ইউনিট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মূলত গ্যাস সংকট থাকায় দিনের অন্তত ৩-৪ ঘন্টা বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যয় কমানোর জন্য এ ছুটি দেওয়া হয়েছে। টানা ছুটির আনন্দ থাকলেও শ্রমিকেরা কারখানার উৎপাদন নিয়ে শঙ্কিত।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চলগুলোর একটি। এখানে কয়েক হাজার তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং, ওয়াশিং, সিরামিক, ওষুধ, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা রয়েছে। গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে যেসব শিল্পকারখানা চার দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে, এসব কারখানার বেশির ভাগই তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক কারখানাই উৎপাদন সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কারখানা মালিকদের অভিযোগ, অব্যাহত গ্যাস–সংকটের কারণে দিন দিন তাদের অর্ডার কমে যাচ্ছে। এই সমস্যাগুলো অব্যাহত থাকলে এ শিল্প ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। গ্যাসের সমস্যার কারণে সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে শ্রমিকদের চার দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ভবিষ্যতে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন তারা।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২ এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, সরকারি ছুটির সাথে মিলিয়ে গাজীপুরে ২০ ভাগ কারখানায় টানা ৪ দিন‌ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজীপুরে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। অর্থাৎ ৪৫ ভাগ গ্যাসের ঘাটতির কারণেই শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় প্রয়োজনীয় চাপ থাকছে না। বিশেষ করে সকাল ও দিনের বেলায় উৎপাদন সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে।