রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে বদলে গেছে ময়লা বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণও। নেই নিয়মের বালাই নেই, এক প্রকার জিম্মি করেই নাগরিকদের থেকে আদায় করা হচ্ছে নির্ধারিত ১০০ টাকার চেয়ে বেশি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ময়লার কোনো ঠিকাদার না থাকায় তদারকিরও কোনো ব্যবস্থা নেই। এমন অবস্থা চলতে দেওয়া হবে না, বলছেন প্রশাসক।
১৮ জানুয়ারি, ২০২৫। মিরপুর ৬ নম্বরের এ ব্লকের বাসিন্দাদের শাসাচ্ছিলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ। যিনি ময়লা বাণিজ্যের একটি চক্রের সদস্য। আরেকজন মোহাম্মদ শাহিন। ফয়সালের ময়লা সিন্ডিকেটের একজন সদস্য। কিন্তু তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অথচ এই শাহীনের নামই বলেছেন, ময়লার চাঁদা তোলার দায়িত্বে থাকা আক্তার। নিজে চাকরি করেন দাবি করলেও দেখাতে পারেননি কোনো প্রমাণ। এরাই গত দেড় বছরে চাপ দিয়ে ময়লার বিল বাড়িয়েছে অন্তত ২ বার। আরও একবার বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে চক্রটি।
ফয়সাল আহমেদের বাবা মিরপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দুলু। অভিযোগ আছে, বাবার ক্ষমতায় দাপট দেখান ছেলে। ২০২৩ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ফয়সালকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারাদেশ বাতিল করা হয় ২০২৬ সালে। কিন্তু তাকে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।
শুধু মিরপুরেই নয়, ডিএনসিসিতে পিসিএসসি ঠিকাদার না থাকায় সব ওয়ার্ডেই এমন পরিস্থিতি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যে যেভাবে পারছে ব্যবসা করছে। নাগরিকদের অভিযোগ, এক প্রকার নিরব চাঁদাবাজির শিকার তারা, অথচ দেখার যেন কেউ নেই।
ময়লা বাণিজ্য ঘিরে অন্তঃদ্বন্দ্বে জড়াচ্ছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরাই। তার প্রমাণ, গত ২৪ জুলাই হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী ইউসুফকে। যদিও টার্গেট ছিল যুবদল নেতা হাফিজ।
ময়লা বাণিজ্য নিয়ে অরজাকতায় ক্ষুব্ধ ডিএনসিসি প্রশাসকও। বললেন, এভাবে চলতে পারে না, লাগাম টেনে ধরার ব্যবস্থা হচ্ছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কিছু জায়গায় অব্যবস্থাপনা থাকতে পারে, এগুলো সিটি করপোরেশনের আওতায় তারা করছে না। অবৈধভাবে কোনো ব্যবস্থাপনা বা বেশি টাকা দাবির অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে রাজধানীর ময়লা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা।