আগামীকাল ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। জেলা পুলিশের পাশাপাশি পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, সরকারি স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে, টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের তিনটি গেট ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, এপিবিএন ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছেন। এছাড়া টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন এলাকায়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান ও পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ টহল বের করা হয়। টহলটি জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ এলাকায় যায়। পরে টহলটি আবার জেলা শহরে ফিরে এসে শেষ হয়।
পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করে বলেন, আগামীকাল ১৫ আগস্ট জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনো অবনতি না ঘটে, সে জন্য বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বদা সতর্ক থাকবে।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলাজুড়ে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির সদস্যরা পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।