শিশু-কিশোরদের ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ

রঙ-তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের রঙিন স্বপ্ন। শিশু-কিশোরদের তুলিতে প্রাণ পেয়েছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রূপসী বাংলা ও স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল নানা অনুষঙ্গ। 

নতুন প্রজন্মের মানসপটে এই চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানীর ধানমণ্ডির নজরুল ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘সম্প্রীতি ও স্বাধীনতা’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা শেষে তিনটি ক্যাটাগরিতে সেরা ১২ জন বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা ও পুরস্কার।

আজ শুক্রবার সকালে স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদ ও স্বাধীনতা চারুশিল্পী পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সকাল থেকেই ছিল কচি-কাঁচাদের উৎসবমুখর পদচারণা। রঙিন ক্যানভাসে স্বপ্নের মেলবন্ধন ঘটিয়ে শিক্ষার্থীরা রূপ দেয় নিজেদের ভাবনার বাংলাদেশকে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী অধ্যাপক জামাল আহমেদ। ক্ষুদে শিল্পীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "সুন্দর জীবন গড়তে হলে দেশের ইতিহাস ধারণ করতে হবে। সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের তৈরি করতে হবে।"

আয়োজকরা জানান, মোট তিনটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘আমাদের নদী’, চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণির বিষয় ছিল ‘স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’ এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ছবি আঁকে ‘চেতনায় বাংলাদেশ’ ভাবনায়। প্রতিযোগিতা শেষে 'পদ্মা', 'মেঘনা' ও 'যমুনা'—এই তিন বিভাগে মোট ১২ জন সেরা শিশু-কিশোরকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিটি শিশুর হাতেই তুলে দেওয়া হয় বিশেষ সনদপত্র।

পদ্মা বিভাগ (শিশু থেকে ৩য় শ্রেণি) থেকে প্রথম স্থান অর্জন করেছে লিটল এঞ্জেলস স্কুলের ওয়াজিহা হাসান আরিবাহ। দ্বিতীয় হয়েছে এঞ্জেল একাডেমির ইয়াস রহমান, তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের মেহরিমা নওমী এবং চতুর্থ হয়েছে লিটল এঞ্জেলস স্কুলের সম্প্রীতা রায়।

মেঘনা বিভাগে (৪র্থ থেকে ৭ম শ্রেণি) প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিলভার ডেল প্রিপারেটরি স্কুলের কামরুন নাহার। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মো. পাবলিক স্কুলের নাজিয়া মেহজাবীন, তৃতীয় হয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের তাসফিয়া মহিব সামিরা এবং চতুর্থ স্থান লাভ করে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রকৃতি চৌধুরী।

যমুনা বিভাগ (৮ম থেকে ১০ম শ্রেণি) থেকে প্রথম হয়েছে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তাজকবা ফেরদৌস জল এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মো. পাবলিক স্কুলের মিফতাহুল ইসলাম। এই বিভাগে তৃতীয় স্থান লাভ করে মাস্টার মাইন্ড স্কুল ও কলেজের শেখ নাজ্জাশীজামান লেনিন এবং চতুর্থ হয়েছে শেরে বাংলা নগর সরকারি বালক স্কুলের আরাফাত ইসলাম।

সামাজিক অস্থিরতা দূরীকরণে সৃষ্টিশীল চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে আয়োজক সংগঠন স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদের আহ্বায়ক ও স্বাধীনতা চারুশিল্পী পরিষদের সদস্য সচিব শিল্পী আশরাফুল আলম পপলু বলেন, "শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও স্বাধীনতার ইতিহাস বিষয়ে সচেতন করতেই আমাদের এই আয়োজন। সমাজে বিরাজমান অস্থিরতা ও অসহিষ্ণুতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শিশু-কিশোরদের মানবিক ও সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তবেই কেবল আমরা একটি সভ্য ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারব।"

নতুন প্রজন্মের কাছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াস ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।