ঢাকা উত্তর সিটির ময়লা বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে হামলা–ভাঙচুর! 

ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন ঢাকা উত্তরের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। মহল্লায় অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা, ভাঙচুর করা হচ্ছে ময়লার গাড়ি। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ময়লা বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে কয়েকটি গ্রুপ। এ পরিস্থিতিতে অন্তত পাঁচটি ওয়ার্ডে চারদিন ধরে বর্জ্য অপসারণ প্রায় বন্ধ। ফলে বাসা-বাড়ি ও সড়কে জমছে ময়লার স্তূপ। 

২৬ আগস্ট, রাত তিনটা। ২১ নম্বর ওয়র্ডের বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র বা এসটিএসে কয়েকজন অস্ত্রধারীর হামলা। ফুটেজে দেখা যায়, ময়লার ট্রাকের ড্রাইভারকে নামিয়ে পিটাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। 

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট, ঢাকা উত্তরের ২১, ৩৭, ৩৮, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হত্যার হুমকিও দেয় সন্ত্রাসীরা।  

এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, ‘৪/৫ জনকে আসতে দেখে আমরা বস্তির ভেতর ঢুকে যেতে চাচ্ছিলাম। ওরা দৌঁড়িয়ে নিয়ে আমাকে ধরেছে। ওরা আমাকে ওয়ালের সাথে ধাক্কা দিয়ে দিয়ে আঘাত করেছে আর পিস্তলের বাট দিয়ে মাথায় দু–তিনটা বাড়ি দিয়েছে। আমার কানের কাছে ফেঁটে গেছে।’  

আরেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, ‘তারা বলে, আপনাদের বলে গেলাম কালকে থেকে কাজে নামবেন না। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন ভাইয়া? তখন বলে যে, এটা বড় ভাইয়ের নির্দেশ।’ 

ময়লার ঠিকাদারের দাবি, এ হামলার নেপথ্যে রয়েছে ময়লা বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ। এসটিএসের কাজ দখলে নিতে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করা হয়।

গুলশান লেকপাড় এসটিএসের সাব-কন্ট্রাক্টর রাকিব ঢালি বলেন, ‘কিছু সন্ত্রাসী দল ৪/৫ দিন ধরে অতর্কিতে হামলা চালাচ্ছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যক্তিগত নম্বরে কল দিয়ে বলছে, তোরা কাজ করবি না। তারা মূলত এই কাজটা দখলে নিতে চাচ্ছে। ৫০ লাখ টাকার মতো চাঁদা দাবি করেছে।’ 

এমন পরিস্থিতিতে পাঁচটি ওয়ার্ডের বাসা-বাড়ির জমে থাকা ময়লা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে বাসিন্দারা।  

স্থানীয় একটি বাড়ির কেয়ারটেকার বলেন, ‘ময়লা নিতে এক–দুদিন লেগে যাচ্ছে। আজকে নিলে কালকে নিচ্ছে না। কালকে নিলে পড়শু নিতেছে না।’  

একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী অভিযোগ করে বলেন, ‘ময়লা এসটিএসে ফেলতে দিচ্ছে না। ওরা ময়লার গাড়ি রেখে দেয়।’ 

এই ঘটনায় যেই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। 

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কারের ব্যাপারে বা এসটিএসে নিয়ে–আসার ব্যাপারে যদি কোনো অনিয়ম বা অন্যায় হয়, এটা আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বরদাশত করব না। এতে যারাই জড়িত থাকুক– সেটা আমাদের দলের হোক বা অন্য কেউ হোক। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে বাড্ডা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।