চিকিৎসার অবহেলায় রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে পরিবারের। রোববার রাতে মারা যায় আয়ান আবদুল্লাহ নামের ওই শিশু। তবে কর্মরত মেডিকেল অফিসারের দাবি, রাত ৮টার পর হঠাৎ করে শিশুটির অবস্থার অবনতি হয়। রাত ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্টে তার মৃত্যু হয়। জন্মের পর থেকেই উচ্চ ডায়েবেটিসে ভুগছিল আয়ান।
রাত ১১টার দিকে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় ফেসবুক লাইভ করে স্বজন আসিফ হাসান। অভিযোগ করেন, রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় মারা গেছে শিশুটি। জন্মের পর থেকেই উচ্চ ডায়েবিটিস সমস্যায় ভুগছিল শিশু আয়ান আব্দুল্লাহ।
আসিফ হাসান বলেন, ‘লাইভে আসার পর ভেতরে একজন চিকিৎসকও ছিল না। একজন আয়া এবং একজন নার্স ছিল শুধু। আর পুরো হসপিটালে ডাক্টার ছিল না।’
সন্তানের মৃত্যুতে স্তব্ধ মা সুমাইয়া রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুচিকিৎসা না দেওয়ার কারণেই মারা গেছে তার সন্তান।
শিশুটির মা সুমাইয়া বলেন, ‘ওর (আয়ান) শরীর শক্ত হয়ে গেছে। পেট ফুলে গেছে, ওর সারা শরীর নীল ছোপ ছোপ, সারা মুখ কালো। মনে হয় ওর শরীর থেকে রক্ত চুষে নিছে। একটা বাচ্চার যদি তখনই মৃত্যু হয় তাহলে তার অবস্থা এরকম হকে পারে না।’
গাফিলতির জন্য হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি পরিবারের। কোনো মায়ের বুক যেন আর খালি না হয়। হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলেও জানান তারা।
একজন স্বজন অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে তারা বিষয়টি দাবানোর চেষ্টা করতেছে।
আরেকজন স্বজন বলেন, ‘আমরা আগে বাচ্চাকে নিয়ে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করব। আমাদের আরও লোকজন আছে তাদের সাথে বুঝে আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার জানান, রাত ৮টা পর্যন্ত শিশুর অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ অবনতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। কারো দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার নাজমুল হক বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করে রোগীর গ্যাস পেইন গ্যসট্রিরেশন শুরু হয় অথ্যাৎ শ্বাস একদম বন্ধ করে দেয়। এরপর আমি প্রথম অবস্থায় আমবো ভ্যান্টিলেশন দেওয়া হয়, তারপর সিপিআর দেওয়া হয়।’
হাসপাতালটির মানবসম্পদ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসার যদি কোনো অবহেলা থাকে তাহলে সেটি নিয়ে অবশ্যই আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। উনার যে অভিযোগ করেছেন সেটি নিয়ে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।’
স্বজনদের দাবি, শিশু মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে হুমকি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে ভয় দেখানো হয় তাদের।