রাজধানীতে ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে শ্যালককে হত্যার অভিযোগ, আটক ২

রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুরে সম্পত্তির জেরে ফখরুল হাসান ফরহাদ (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে।

গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে শাহজাহানপুর থানা-পুলিশ।

নিহত ফরহাদ রাজধানীর শাহজাহানপুর আমতলা এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে। তিনি বেশ কয়েকবার স্ট্রোকজনিত কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। বর্তমানে কোনো কাজ করতে না পেরে তিনি বেশির ভাগ সময় বাসায়ই অবস্থান করতেন। প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে করলেও এই দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।

নিহতের বোন নার্গিস জানান, তারা দুই বোন ও এক ভাই। শাহজাহানপুরের চারতলা বাড়ির জমিটি দুই বোনের নামে নিবন্ধিত। দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পত্তি, গ্যাস বিল ও পানি বিল নিয়ে আফসানা ও তার স্বামী সুজনের সাথে বিবাদ চলছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুরো বাড়িটি নিজেদের দখলে নেওয়া।

তিনি আরও জানান, ভবনের চারতলার ছাদের অংশটি নিজের নামে থাকায় সেখানে ভাইকে থাকার জায়গা দিয়েছিলেন। চারতলার ছাদের একটি টিনশেড কক্ষে ফরহাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী পেশায় বিউটি পার্লার কর্মী। বুধবার রাতে সুজন দেশীয় চাপাতি নিয়ে ফরহাদের ঘরে ঢুকে তার ওপর হামলা চালায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান জানান, রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এসআই মেহেদী হাসান আরও বলেন, মরদেহের সুরতহাল দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো চাপাতি দিয়ে গলায় আঘাত করায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।