ফরিদপুরের সদরপুরে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও তার মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের সময় ওই নারীর আর্তচিৎকারেও থামেননি অভিযুক্তরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার দুটি ভিডিও নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চর কৃষ্ণপুর বেপারীডাঙ্গী গ্রামে। নির্যাতনের শিকার রিক্তা বেগম ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী রাজিব বেপারীর স্ত্রী। গত রোববার সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক গৃহবধূকে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কালো টি-শার্ট পরা এক যুবক তার হাত ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে, চেক টি-শার্ট পরা আরেক যুবক ধারালো কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কাটছেন। এ সময় ওই নারী চিৎকার করে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেন। কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির বাধা উপেক্ষা করেও চুল কাটতে থাকেন ওই দুই যুবক। ভিডিওর শেষ দিকে গৃহবধূর মুখে থাপ্পড় মারতেও দেখা যায়।
অন্য একটি ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে রাতে ওই নারী ও এক যুবককে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় ওই নারীকে মারধর করতেও দেখা গেছে। ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন রিক্তা বেগম। ওই রাতেই তার কক্ষে এক যুবককে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে তারা দুজনকে আটক করেন। ওই যুবক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে রাখেন।
স্থানীয়দের দাবি, এরপর তাদের আটকে রাখা হয়। পরদিন রোববার বিকেলে ওই গৃহবধূর চুল কেটে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আটক যুবককে পরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও জানান তারা।
স্থানীয় সূত্রে নির্যাতনের ঘটনায় সুমন হোসেন ও জয় হোসেন নামে দুই যুবকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সুমন স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ বেপারীর নাতি বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিক্তা বেগমের বাবার বাড়ি সদরপুর উপজেলার পাশের ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীরহাট গ্রামে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আ. জলিল মোল্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে নির্যাতনের শিকার নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিও দুটি কে বা কারা ধারণ করেছেন এবং কারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নির্যাতনের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং এর পেছনে অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সোমবার সকালে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, ‘ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। কেউ অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য আইন রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।’