দীর্ঘদিন ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল সেচ ব্যবস্থায় বাড়তি খরচের চাপে ছিলেন কৃষকরা। এবার সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচপাম্পে বদলে যাচ্ছে সেই চিত্র। ফরিদপুরের চরাঞ্চলে ফিতা পাইপ ও স্প্রিংকলারের মাধ্যমে জমিতে পৌঁছে যাচ্ছে পানি। কমছে পানির অপচয়, সাশ্রয় হচ্ছে জ্বালানি।
ফরিদপুরের চরাঞ্চলে এখন সূর্যের আলোয় চলছে সেচপাম্প। সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দিচ্ছেন কৃষকরা। আধুনিক এ পদ্ধতিতে পানি ব্যবস্থাপনায় আসছে পরিবর্তন, কমছে জ্বালানির ওপর নির্ভরতা।
প্রকল্পের আওতায় অনেক কৃষক ব্যবহার করছেন ১ হাজার ২৪০ ওয়াটের সোলার প্যানেল ও ১ হর্সপাওয়ার সাবমারসিবল পাম্প।
সৌর সেচের পাশাপাশি সম্পদ-সাশ্রয়ী উৎপাদন, জলবায়ুসহিষ্ণু প্রযুক্তি, আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় কমানোর ওপর কৃষকদের দেয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণও।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা করে পরিমিত সার প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে নিচ্ছেন পরিবেশবান্ধব বালাই দমন পদ্ধতি।
একেকে প্রজেক্ট ম্যানেজার ফুয়াদ হোসেন বলেন, ‘প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকরা নিয়মিত মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সার দিচ্ছেন। রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে কাজে লাগাচ্ছেন জৈব বালাইনাশক, ফেরোমন ফাঁদ, স্টিকি ট্র্যাপ ও সৌরচালিত আলোক ফাঁদ। এতে পোকামাকড় দমনের পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই সবজি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’
কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে কৃষকের খরচ কমার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি ও প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সেচে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন বা বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে কৃষকদের। এতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ, পাশাপাশি জ্বালানি পোড়ানোর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিবেশ। সৌরবিদ্যুৎ নির্ভর সেচ বদলে দিচ্ছে সেই চিত্র।’
১ হাজার ২৪০ ওয়াটের সোলার প্যানেল ও ১ হর্সপাওয়ার মোটরসহ একটি সেচব্যবস্থা স্থাপনে খরচ প্রায় এক লাখ টাকা।


