জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য নৃত্যানুষ্ঠান ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে এই আয়োজন করা হয়।
সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘স্কেচ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় মাহমুদ নিয়াজ চন্দ্রদ্বীপের পরিকল্পনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার সোহাগি শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন–বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রাক্তন নৃত্য পরিচালক দীপক খন্দকার, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষক ও বর্তমান কাজী নজরুল ইনস্টিটিউটের মন্দিরা চৌধুরী, গবেষক ও নৃত্য পরিচালক ডক্টরেট নিগার চৌধুরী এবং স্কেচ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এর সহ-সভাপতি ও উপদেষ্টা সুস্মিতা নাসরিন।
অনুষ্ঠানে কবি নজরুলের প্রকৃতি, শিশুতোষ ভাবনা, ঋতু পরিবর্তন, বর্ষার আবাহন এবং রোমান্টিক ভাবধারার বিভিন্ন জনপ্রিয় গান—যেমন ‘মোমেরও পুতুল’, ‘প্রজাপতি প্রজাপতি’, ‘শুকনো পাতায় নূপুর পায়ে’ ও ‘বেলি ফুল এনে দাও’-এর সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। নূপুরের নিক্কন ও ছান্দসিক নাচের ভঙ্গিমায় মিলনায়তনে এক অনবদ্য সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়।
নৃত্য পরিবেশনার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও শিল্পক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের কৃতি ব্যক্তিত্বদের হাতে ‘গুণীজন সম্মাননা’ তুলে দেওয়া হয়। সমগ্র আয়োজনটির সর্বাত্মক সহায়তায় ছিল ‘প্রাণ’।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা স্কেচ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এর এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং নজরুল চর্চাকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এমন প্রয়াস অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।