৪ বছরেও চালু হয়নি যশোর হাসপাতালের আইসিইউ, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে চার বছরেও চালু হয়নি যশোর সদর হাসপাতালের আইসিইউ ও আইসোলেশন ইউনিট। শয্যাসহ সব সরঞ্জাম প্রস্তুত হলেও থমকে আছে লিফট সম্প্রসারণ কাজ। কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের জন্য অস্বাভাবিক অর্থ বরাদ্দ চাওয়ায় দেখা দিয়েছে জটিলতা। এদিকে আইসিইউ সাপোর্ট না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যশোর অঞ্চলের রোগীরা। 

জানা গেছে, করোনার সময় তড়িঘড়ি করে যশোর সদর হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডকে অস্থায়ী আইসিইউতে রূপ দেওয়া হয়। পরে করোনারি কেয়ার ইউনিটের চতুর্থ তলায় স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়। ১০ শয্যার আইসিইউ ও ২০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিটও স্থাপন করা হয়। কিন্তু ৪ বছর ধরে কোনো কাজেই আসছে না সাড়ে চার কোটি টাকার প্রকল্পটি। মুমূর্ষু রোগীদের আইসিইউ’এর সাপোর্টের জন্য নিতে হয় রাজধানী কিংবা অন্য জেলায়। এ কারণে টাকা ও সময় বেশি লাগছে।

এক রোগীর স্বজন বলেন, এখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা বলছেন–আমাদের রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা বলছেন যে রোগী আইসিইউতে নিতে হবে। আইসিইউতে না নিলে রোগী বাঁচবে না। এই মুহূর্তে আমাদের রোগীকে নিয়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার একটা যাত্রা করে ঢাকায় যাওয়া, সেখানে গিয়ে হাসপাতালে চেনা-জানা এগুলো তো আমাদের নাই।’

আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার রোগী এখন এখানে অক্সিজেন দেওয়া অবস্থায় আছে। এখন আমরা ঢাকাতে গিয়ে কোথায় নেব, কীভাবে চিকিৎসা করব, আমরা তো আসলে এগুলো কিছু বুঝি না।’

আইসিইউ ইউনিটের সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পরও, রোগী ওঠানামার জন্য সম্প্রসারণ করা হয়নি লিফট। এ কারণেই দেখা দেয় সংকট।

যশোর সদর হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ‘স্থাপনার যে পার্টিকেল এক্সটেনশনগুলি সেগুলোর সাথে যন্ত্রপাতিরও স্টাব্লিশড হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমরা সেগুলো কার্যকর করতে পারিনি কারণ আমাদের এইখানে লিফট তিনতলা পর্যন্ত, চারতলা পর্যন্ত যায়নি। এই সমস্যা আছে বলে আমরা ওইটা চালু করি নাই।’  

ভবনটির তিনটি ফ্লোরের লিফটের জন্য ব্যয় হয়েছে ৮০ লাখ টাকা। সেই একই ভবনের চতুর্থ তলায় লিফট সম্প্রসারণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ লাখ টাকা। এমন বরাদ্দের দাবিকে অস্বাভাবিক মনে করছেন কর্মকর্তারা।

যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডের শিল্ড লিফট বাংলাদেশে স্থাপনের জন্য ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে একমাত্র পরিবেশক। আমাদের এই মুহূর্তে দ্বিতীয় ভেন্ডরের কাছে যাওয়ার সুযোগ নেই, কারণ তিন তলা পর্যন্ত তাদের লিফট আছে, এটিকে যদি আমরা চরতলায় সম্প্রসারণ করতে যাই তাহলে তাদের মাধ্যমেই আমাদের এই কাজটি করতে হবে।’  

কর্মকর্তারা জানান, সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী, একই কোম্পানি লিফট বসানোর কাজ না করলে মিলবে না রক্ষণাবেক্ষণ খরচ। এমন বাধ্যবাধকতা না থাকলে আরো অনেক কম খরচে লিফট স্থাপন করা সম্ভব হতো।