যশোরের চিত্রা নদী খনন প্রকল্পের মাটি বসতভিটায় ফেলার কারণে বিপাকে পড়েছেন নদীতীরের দেড় শতাধিক পরিবার। অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্পের কাজ চালানোর অভিযোগ করছেন তাঁরা। এ ছাড়া নদীর জায়গায় প্রভাবশালীদের তৈরি স্থাপনা বহাল তবিয়তে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড।
যশোরে চিত্রা নদী ভরাট হওয়ায় খননের দাবি ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। ২০২৫ সালের জুনে নড়াইলের গড়ের বাজার থেকে যশোরের বাঘারপাড়া খাজুরা পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
তবে খননের মাটি ফেলায় বিপাকে পড়েছেন ধর্মগাতী ও ঘোপ দুর্গাপুর গ্রামের নদী তীরের দেড় শতাধিক পরিবার। তাদের বসতভিটা, রান্নাঘর, গোয়ালঘর এমনকি টিউবওয়েলও ঢাকা পড়েছে মাটিতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর জায়গা দখল করে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য রনজিত রায় বাড়ি করলেও তা উচ্ছেদ হয়নি।
স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেন যশোরের বাঘারপাড়ার বন্দবিলা ইউপি সদস্য শাহনাজ বেগমও। তিনি জানান, চিত্রা নদী খনন প্রকল্পের মাটি বসতভিটায় ফেলার কারণে বিপাকে পড়েছেন নদীতীরের দেড় শতাধিক পরিবার।
স্থানীয়দের দুর্ভোগ এড়াতে নদী থেকে তোলা মাটি বসতভিটায় না ফেলার আশ্বাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ‘স্থানীয়দের বাড়ি-ঘরের ওপর মাটি পড়ছে এমন যদি কোনো বিষয় থাকে অবশ্যই সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নদীর ভেতরেও অবৈধ স্থাপনা থাকার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো স্থাপনা থেকে থাকে, তবে সেটা যারই হোকনা কেন, তা অপসারণ করে আমরা নদী পুনঃখননের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করব।’