মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় বছর পার হলেও খুলনার ভৈরব সেতুর কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। বর্ধিত মেয়াদেও কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজে দেরি হয়েছে জানিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, পুনর্নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে।
খুলনা মহানগরী থেকে দিঘলিয়ার সাথে সড়ক পথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য ভৈবর নদের ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায় ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।
কিন্তু কাজে ধীর গতির কারণে এখন পর্যন্ত সেতুর ৩০৮টি সার্ভিস পাইলের মধ্যে ১০০টি, ৩০টি পাইল ক্যাপের মধ্যে ৫টি ও ২৮টি পিয়ার কলামের মধ্যে মাত্র ৩টির কাজ শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে কাজ হয়েছে ৩০ শতাংশ। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগ, সেতু নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই দিঘলিয়াবাসী হতাশ।
আরেক স্থানীয় আবার বলেছেন, ভূমি অধিকরণ ছাড়াই শুরু হয় এই সেতু নির্মাণ কাজ।
খুলনা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সভাপতি কুদরত ই খুদা এ প্রসঙ্গে বলেন, 'বাংলাদেশে এখন প্রতিটি প্রকল্প দেরি করে শেষ করা, মেয়াদ শেষের পর আবার তা বাড়ানো যেন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।'
জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজে দেরি হয়েছে জানিয়ে খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, চলমান মেয়াদে কাজ শেষ হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, দিঘলিয়া প্রান্তে জমি বুঝে পাওয়ার পর কাজ চলছে সেখানে। রেলিগেট প্রান্তে রেলওয়ের কিছু স্থাপনা রয়েছে। সেগুলোর ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া শেষ হলে, ওখানকার জমিও আমরা বুঝে পাব।'
৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার ভৈরব সেতু প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দিঘলিয়াবাসীর সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে।