সাতক্ষীরায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হকসহ ৫৪ জনের নামে হত্যা মামলা

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ নাংলা গ্রামের আনারুল ইসলামকে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাবেক সাংসদ, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক এবং সাতক্ষীরার তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীরসহ ৫৪ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার নিহতের ভাই রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে সাতক্ষীরার আমলী আদালত -৭ এ মামলাটি দায়ের করেন। এ সময় বিচারক মো. মহিদুল ইসলাম মামলাটি ১৫৬(৩)/১৫৭ ধারা মোতাবেক এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে মামলাটি একজন সহকারি পুলিশ সুপার বা পুলিশ সুপার পদমর্যাদার তদন্তকারি কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, কালিগঞ্জ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারক বিশ্বাস, বিভিন্ন থানায় কর্মরত পাঁচজন উপপরিদর্শক দুইজন সহকারি উপরিদর্শক, ২১ জন সিপাহী, নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন ওরফে সাহেব আলীসহ আওয়ামী লীগের ১৯ জন নেতা কর্মী ও দুই জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ডা. আ.ফ.ম রুহুল হক, তৎকালিন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর, সদর সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারি পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান, কালিগঞ্জ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামানসহ ৫৪ জন দেবহাটা উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামের আনারুল ইসলামের ঘেরে যান। খবর পেয়ে মামলার বাদি রবিউল ইসলাম বিষয়টি তার ভাই আনারুলকে অবহিত করলে সে ঘেরের বেড়িবাঁধ বরাবর দৌড়ে পালাতে থাকে। কিন্তু কিছুদূর যেতে না যেতে আসামিরা তাকে ধরে ফেলে।

একপর্যায়ে উপপরিদর্শক জিয়াউল হক পিছন দিক থেকে তার বাম হাঁটুতে গুলি করে জখম করে। পরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারক বিশ্বাস তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে আনারুলের পেটের বাম দিকে গুলি করে। পরে আনারুলকে সাতক্ষীরা সদর হাপসাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. হাফিজুর রহমান জানান, মামলাটিকে এজাহার হিসেবে নিতে সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।