শ্যামনগরে রেজাউলকে গুলি করে হত্যা 

সাতক্ষীরায় সাবেক এমপি ও সাবেক এসপিসহ ৪৬ জনের নামে মামলা

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা গ্রামের রেজাউল ইসলামকে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার, তৎকালীন পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমানসহ ৪৬ জনের নামে মামলা হয়েছে। নিহতের ভাই সাঈদুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। 

আদালতের বিচারক চাঁদ মো. আব্দুল আলীম আল রাজী নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ এর ৫(৫) ধারা অনুযায়ী ডিআইজি খুলনাকে অভিযোগের তদন্ত করে আগামী ২৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন– সাবেক সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দারের ভাই এসএম কামরুল হায়দার, নারী ও শিশু আদালতের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার, সংসদ সদস্যের ছেলে রাজীব হায়দার, ঈশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শুকুর আলী, তার ছেলে সাইফুল্লাহ আল মামুন, আশাশুনি উপজেলার দরগাপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মিয়ারাজ আলী ও শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আকবর কবীর প্রমুখ।  

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৮ জুলাই রাতে খাবার খেয়ে বাদঘাটা গ্রামের আব্দুল মাজেদ দফাদারের ছেলে রেজাউল ইসলাম স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে আসামিরা বাড়িতে এসে রেজাউলকে ডাকাডাকি করে। দরজা খুলে বেরিয়ে আসামাত্রই কয়েকজন পুলিশসহ আসামিরা তাকে পিঠমোড়া দিয়ে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে চোঁখ বেঁধে উঠানে ফেলে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে ব্যাপক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাকে পুলিশের পিকআপে তুলে শ্যামনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার স্ত্রী মাকসুদা ও মামলার বাদী সাঈদুলের সামনে আরও এক দফা নির্যাতন চালানো হয়। আসামি জহুরুল হায়দারের নির্দেশে পরে তাকে থানা থেকে পুলিশ পিকআপে করে খানপুর বাজার থেকে ৪০০ মিটার পশ্চিমে রাস্তার পাশে কালভার্টের উপর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুলিশ গুলি করে রেজাউলকে হত্যা করে। পরে তার লাশ শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের রোগী বহনকারি ট্রলিতে পাওয়া যায়। পরদিন বিকেল ৫টার দিকে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ ইঞ্জিনভ্যান যোগে রেজাউলের মরদেহ বাড়িতে এনে তাদের উপস্থিতিতে দাফন করায়। নিহত রেজাউলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন ছিল। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ২৮ জুলাই রাতে আসামি এসএম জহুরুল হায়দার ও আব্দুল গফুরের নির্দেশে নিহত রেজাউলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ)/২৩ ধারায় শ্যামনগর থানায় ১৯ নম্বর (জিআর- ১৬১/১৮ নং) মামলা করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী বাসারতউল্লাহ আওরঙ্গী বাবলা বলেন, ‘খুলনা রেঞ্জের ডিআইজিকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’