নির্যাতন–গুলির অভিযোগে সাতক্ষীরার সাবেক এসপিসহ ৪৫ জনের নামে মামলা

১১ বছর আগে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের আব্দুর রউফকে বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্যাতনের পর হাঁটুতে গুলি করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গুলিতে পা হারানো আব্দুর রউফ বাদী হয়ে মঙ্গলবার ৭ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি করেছেন। 

বিচারক মহিদুল হাসান মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

এ মামলায় দেবহাটা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান ও কালিগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসেন ছোট, তৎকালীন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর, সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামানসহ ৪৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 

মামলার অন্য আসামিরা হলেন– কালিগঞ্জ সার্কেলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান, দেবহাটা থানার ওসি তারক চন্দ্র বিশ্বাস, কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন পাড় ও সাদপুর গ্রামের প্রদীপ ঘোষ প্রমুখ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রউফ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান ও তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীরের নির্দেশে পুলিশ ও আসামি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে আনে। পরে হাতকড়া লাগিয়ে হাত ও পা বেঁধে নির্যাতন চালায়। শুধু তাই নয়, তার দোকানঘর ভাঙচুর করে আগুন লাগানো হয়। পরে তাঁকে পুলিশ পিকআপে করে সখীপুর কলেজ মাঠে নিয়ে আসা হয়। 

এ সময় উপ–পরিদর্শক বসির উদ্দিন ও উপ–পরিদর্শক জিয়াউল হক তাঁর ডান হাঁটুতে দুই বার গুলি করে হাড় গুড়িয়ে দেয়। পরে তাঁকে মৃতপ্রায় অবস্থায় সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়। এখন তিনি পঙ্গু। এ ঘটনায় উপপরিদর্শক বসিরউদ্দিন বাদী হয়ে আব্দুর রউফসহ কয়েকজনের কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় জিআর-১৫৫/১৩ নং মামলা দায়ের করেন। যে মামলা এখনো বিচারাধীন। এ মামলায় বাদী ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে ছিলেন। 

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুস সামাদ বলেন, ’তখন পরিস্থিতি অনুকুলে না থাকায় বর্তমানে উপযোগী সময় বুঝতে পেরে আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করতে দেবহাটা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।’