দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ে হয়ে যায় খুলনা মহানগরীর করিমনগর এলাকার শাম্মী আক্তার সুইটির। তাঁর বয়স তখন মাত্র ১৬, সালটা ছিল ১৯৮৮। স্বামী-সন্তান-সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বলতে গেলে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে যায় তাঁর।
শাম্মি আক্তার সুইটির সংসার জীবনে কোল আলো করে আসে দুই ছেলে। তারা বড় হয়। একসময় শেষ হয় তাদের পড়াশোনাও। কিন্তু মনের কোণে রয়ে গিয়েছিল নিজের পড়াশোনার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের কথা স্বামী-সন্তানদের কাছে বলতেন তিনি।
এসকময় স্বপ্নের বাস্তবায়নও শুরু হয় সুইটির। স্বামী ও সন্তানদের উৎসাহে ২০২১ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে খুলনা মহনগরের বিকে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন নবম শ্রেণিতে। ২০২৩ সালে জিপিএ ৩.৮২পেয়ে উত্তীর্ণ হন এসএসসি। এরপর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি খুলনা সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজে। চলতি বছর তিনি ৩.১৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন এইচএসসি।
শাম্মী আক্তার সুইটির ছোট ছেলে এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন সনি বলেন, ‘পরিবারের সকলের সহযোগিতা নিয়ে মাকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলাম। যাতে মা সামনে এগিয়ে যেতে পারেন। বাস্তবায়ন করতে পারেন স্বপ্ন।’
শাম্মী আক্তার সুইটি এখানেই থামতে চান না, চালিয়ে যেতে চান পড়াশোনা। যেতে চান বহুদূর। তিনি একজন উদ্যোক্তা। ‘চেঞ্জ মেকার নেক্সাস লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। এই প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতেও পড়াশোনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। সেই ব্যবসা প্রসারের জন্যও তিনি করতে চান পড়াশোনা।
সুইটি বলেন, ‘শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। একজন মা শিক্ষিত হলে জাতি শিক্ষিত হয়। আমাকে দেখে অন্য নারীরা এগিয়ে আসুক।’
শাম্মী আক্তার সুইটি শুধু নারী উদ্যেক্তরা নন, লেখেন গল্প–কবিতা। দুই ছেলে, স্বামী, বড় ছেলের বউ নিয়ে তাঁর সুখের সংসার। বড় ছেলে মো. মামুনুর রশীদ শুভ নোয়াখালীর লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক মহিলা কলেজের প্রভাষক। ছোট ছেলে এম এম আবদুল্লাহ আল মামুন সনি হাঙ্গেরির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেছেন। বর্তমানে মায়ের সঙ্গে ব্যবসা দেখাশোন করছেন। আর স্বামী মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট।