বাগেরহাটে ভাড়া বাসায় গৃহবধূর মরদেহ, পরিবারের বলছে হত্যাকাণ্ড

বাগেরহাটে সাদিয়া আক্তার (২৯) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার রণবিজয়পুর গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সাদিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

নিহতের স্বামী পারভেজ শেখ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল মর্গে সাদিয়ার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

সাদিয়া আক্তার বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারি গ্রামের মোস্তফা শেখের মেয়ে। তিনি পুলিশ লাইনের সামনের একটি পুতুল তৈরির কারাখানার শ্রমিক ছিলেন।

নিহতের বড় বোন তানিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার বোনের আগে বিয়ে ছিল। সেখানে তার ডির্ভোসের পর জেলা পুলিশ লাইনের সামনের একটি পুতুল তৈরির কারখানায় কাজ নেয়। সম্প্রতি শহরের গোবরদিয়া এলাকার পারভেজ নামে এক বাস চালককে সাদিয়া বিয়ে করে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। মঙ্গলবার রাতে বোনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে সেখানে যাই।’

তানিয়া আরও বলেন, ‘বোন যে ঘরে বসবাস করত সেই ঘরের খাটের শোয়ানো ও গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পোড়া চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। তাকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।’

প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে তানিয়া আক্তার আরও বলেন, ‘গত শুক্রবার বোনের সঙ্গে তার স্বামীর মনোমালিন্য হয়। সেই নিয়ে তার স্বামী তাকে মারধর করে। ওইদিনের পর থেকে তার স্বামী পারভেজকে দেখা যায়নি। তার স্বামী তাকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে পালিয়ে গেছে।’

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ-উল-হাসান বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে সাদিয়া নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহে পচন ধরেছে। অন্তত তিনদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

ওসিন আরও বলেন, ‘তার স্বামী পারভেজকে পেলে হত্যার কারণ জানা যাবে। পারভেজকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল মর্গে সাদিয়ার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।’