ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে ৫৮০ গাছ লাগিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন দেশের প্রথম কার্বন নিরপেক্ষ শিশুর বাবা-মা। সাতক্ষীরায় ৯ মাস বয়সী আয়ান খান রুহাবের জন্য এসব গাছ রোপণ করেন তারা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাদের এমন উদ্যোগ আরও অনেককেই উদ্বুদ্ধ করবে, প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শিবপুর গ্রামের আয়ান খান রুহাবের জন্ম এ বছর ১০ ফেব্রুয়ারি। তার সাথে বেড়ে উঠছে আম-জাম-কাঁঠাল-নিমসহ ফলদ ও বনজ গাছ ৫৮০টি গাছ। ভূমিকা রাখবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে।
আয়ানের বাবা-মা পরিবেশবাদী সংগঠনে কাজ করেন। শিশুদের জন্য বিশুদ্ধ বাতাস ও সবুজ পৃথিবীর গুরুত্ব মাথায় রেখেই এই গাছ লাগানোর উদ্যোগ দেন তারা।
রুহাবের মা আয়েশা আক্তার বলেন, ‘রুহাবের জন্মের দুমাস পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, তাকে কার্বন নিরপেক্ষ বেবি হিসেবে গড়ে তুলব। ওর বাবা ইক্যাডের ফেলো হিসেবে কার্বন নিরপেক্ষ বেবি হিসেবে গড়ে তুলতে গাছের সংখ্যা নির্ধারণ করে। এরপর রুহাবের ৮ মাস বয়সে ৫৮০টি গাছ লাগানো হয়। আমাদের বাড়িতে কিছু ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে এসকল গাছ লাগানো হয়।’
ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণে প্রশংসায় ভাসছেন এই দম্পতি। এমন পদক্ষেপ সবারই নেওয়া উচিত বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল গফুর বলেন, ‘রুহাবের পিতা-মাতা তাকে কার্বন নিরপেক্ষ বেবি হিসেবে গড়ে তুলতে ৫৮০টি গাছ লাগিয়েছে। একটি শিশু যত কার্বন নিঃসরণ করবে, আর যত অক্সিজেন গ্রহণ করবে, তার একটি ভারসাম্য হবে। আমি মনে করি, প্রত্যেক মা-বাবার এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। কারণ যারা আসছে, তাদের সবুজ পৃথিবী উপহার দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’
সাতক্ষীরার মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এ ধরনের দৃষ্টান্ত আরও অনেককে উদ্বুদ্ধ করবে বলছেন কৃষি কর্মকর্তা। কার্বন নিঃসরণ কমাতে বেশি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ তার।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, ‘আমাদের তালা উপজেলার শিবপুরে জন্ম নিয়েছে কার্বন নিউট্রল শিশু। তার মা-বাবা যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার জন্য সে বাংলাদেশের প্রথম কার্বন নিরপেক্ষ শিশু হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা তালাবাসী এর জন্য গর্বিত। শুধু তারা নয়, বাংলাদেশের প্রত্যেক মা-বাবার উচিত-এভাবে গাছ লাগানো, যাতে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোাগের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত হতে পারবে।’
আয়ানকে দেশের প্রথম কার্বন নিরপেক্ষ শিশু হিসেবে ১৯ অক্টোবর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।