মাগুরায় প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: আটক ২ ব্যক্তির বিষয়ে যা জানা গেল

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বড়দিয়া গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের দু'জনকে আটক করে পুলিশ জেল হাজতে পাঠিয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ আরও দুই আসামীকে আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার রাতে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারকৃত দু'জন হলেন: নাফিস আহমেদ স্বাধীন (২২) ও সিজান মাহমুদ সানি (২০)।  গত মঙ্গলবার তাদেরকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামী-ই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা কমিটির সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।

গত বুধবার গ্রেপ্তারকৃতদের মাগুরা জেলা আদালতে তোলা হলে আদালত দু'জনকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশনা দেন। এই ঘটনায় আরও দুই আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মহম্মদপুর পুলিশ। 

গত ৫ জানুয়ারি নিজের কর্মস্থল থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ভুক্তভোগী ওই নারী মহম্মদপুর থানাধীন গোপালপুর গ্রামের মেসবার ইটভাটার মোড়ে যানবাহন থেকে নামেন। এ সময় সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা গোপালপুর গ্রামের মোস্তফার ছেলে সানি (২০), জাহিদুল ইসলামের ছেলে মো. স্বাধীন (২২), কাউসার আলীর ছেলে মো. রুবেল (২৫) এবং মোক্তার হোসেনের ছেলে মো. সুমন (২৫) জোরপূর্বক ভুক্তভোগী নারীকে ধরে নিয়ে যায়।

অভিযোগে জানা যায়, আসামিরা ভুক্তভোগী ওই নারীকে আসামী সানি'র মালিকানাধীন একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে গিয়ে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরের দিন, অর্থাৎ ৬ জানুয়ারি দুপুরে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় উপস্থিত হয়ে নিজে বাদী হয়ে আসামীদের অভিযুক্ত করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুসাইন জানিয়েছেন, গত বছরের এপ্রিলে মহম্মদপুর উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের কমিটি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ওই কমিটির কয়েকজন সদস্যের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই দিন পরে কমিটিটি স্থগিত করা হয়।

গত আট মাস ধরে উপজেলায় সংগঠনটির কোনো কমিটি নেই বলেও জানান তিনি। 

বৃহস্পতিবার রাতে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামানের সাথে মামলার বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বাকি দুই জন আসামীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ রাতদিন চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ওসি বলেন, ‘আমরা কিছু তথ্য পেয়ে অনুসন্ধান এগোচ্ছি, এখনই সব কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে খুব দ্রুত তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে।’