কুষ্টিয়ায় অপরাধে সক্রিয় অন্তত ১০টি বাহিনী। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি চরমপন্থা আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে। এসব বাহিনী পরিচালিত হচ্ছে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায়। তবে প্রার্থীদের শঙ্কা, নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অপরাধীদের ঠাঁই নেই কুষ্টিয়ায়।
সংস্কৃতির জেলা কুষ্টিয়ায়, নব্বই দশকে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল চরমপন্থীদের। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা পদক্ষেপে স্বস্তি ফেরে জনমনে। কিন্তু সম্প্রতি চরমপন্থা আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে, অভিযোগ স্থানীয়দের।
তথ্য বলছে, কুষ্টিয়ার পদ্মার চরাঞ্চলে সাঈদ, মুনতাজ, কাকন, বেলাল, টুকুসহ ডজন খানেক বাহিনী সক্রিয়। অভিযোগ আছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল অস্ত্র চরমপন্থীদের হাতে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘কিছু দিন আগে চরে গোলাগুলি হলো, রাতে আবার আরেক জায়গায় হলো, এগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষ অশান্তিতে বাস করছে।’
আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘দেশে যদি এগুলা হয় তাইলে ভয় তো লাগেই।’
সশস্ত্র মহড়া আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন শঙ্কায় প্রার্থীরাও।
কুষ্টিয়া-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ বলেন, ‘নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থাকা উচিৎ তা এখনও আমরা পুরোপুরিভাবে দেখছি না। সেক্ষেত্রে আমার কাছে মনে প্রশাসনকে আরও সোচ্চার হতে হবে।’
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি আমির হামজা বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে এখনও জিনিস আসে, এগুলো আমরা শুনছি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যও আছে। আমরা চাই নির্বাচনের আগে খুব দ্রুত এগুলো কালেকশন করা হোক। নইলে এগুলোর প্রভাব পড়বে। এগুলোর প্রভাব পড়লে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।’
তবে সতর্ক আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি, সুষ্ঠু নির্বাচনে কেউ বাধা হতে পারবে না।
কুষ্টিয়া সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা হয়তো দু-একটা বাহিনীর নাম জোড়েসোড়ে শোনেন। কিন্তু ব্যাপারটা এমন না, শুধু দু-একটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই এইটা। চরাঞ্চলে অস্ত্রধারী কারো উপস্থিতি আর রাখব না। এটা আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’
৪৭ বিজিবি অধিনায়ক রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা অস্ত্র এবং অন্যান্য চোরাচালানের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবস্থায় আছি। আনুমানিক ২৫টির বেশি অস্ত্র আমরা উদ্ধার করেছি। অস্ত্রের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত আছে এবং থাকবে।’
পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রই নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনের আগেই সেসব উদ্ধারের দাবি তাদের।