জামায়াত প্রার্থী আমির হামজার ফেসবুক পেজ বন্ধ, সাইবার হামলার অভিযোগ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া–৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি আমির হামজার অফিসিয়াল ভেরিফাইড ফেসবুক পেজটি ডিজেবল হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পেজটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত সাইবার হামলা’ ও ‘ডিজিটাল সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মুফতি আমির হামজা। একই দিন রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়ায় নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুফতি আমির হামজা বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে জনগণের কাছে পৌঁছানোর অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো সোশ্যাল মিডিয়া। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নিয়মিত ‘ফেক স্ট্রাইক’ বা মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে আসছিল। এর ফলেই বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তার ভেরিফাইড পেজটি ডিজেবল হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে প্রতিপক্ষ একটি দল ও তাদের নেতাকর্মীরা ভীত হয়ে এই ন্যাক্কারজনক পথ বেছে নিয়েছে। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও তাদের প্রচারণা ব্যাপক সাড়া ফেলায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দেখে প্রতিপক্ষ এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও বাধা সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

মুফতি আমির হামজা জানান, পেজটি পুনরুদ্ধারের জন্য ইতোমধ্যে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ আপিল করা হয়েছে এবং তাদের টেকনিক্যাল টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ধরনের ডিজিটাল অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ দায়ের করা হবে এবং প্রচলিত আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সত্য প্রচারের কণ্ঠরোধে যে ডিজিটাল হয়রানি চালানো হচ্ছে, তা জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

এ সময় তিনি সমসাময়িক হামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বলেন, নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী, এমনকি নারী কর্মীরাও বিভিন্নভাবে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। বৃহস্পতিবারও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে গিয়ে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাজহার মাহবুবসহ আরও চারজন হামলার শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া গত পরশু দিন শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি খাজা হামেদও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় মুফতি আমির হামজার সহযোগী এনামুল হক কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।