‘কোনো ক্যারম, কোনো টিভি চলবে না, এক কথায় শেষ, রমজান মাস’–কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি বাজারে গিয়ে এক চা দোকানিকে এমন নির্দেশ দিয়েছেন নবনির্বাচিত এমপি আমির হামজার সঙ্গে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা।
গত শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা এলাকাবাসীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে যান। এ সময় তাঁর সাথে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা মসিউল আজম এক চা বিক্রেতাকে উদ্দেশ্য করে এই নির্দেশনা দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
৩৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সন্ধ্যায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বাজার পরিদর্শন করছেন এমপি আমির হামজা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আওতাধীন পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম। তিনি সেসময় সাদাপোশাকে ছিলেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, হঠাৎ এক চা দোকানির দিকে আঙুল তুলে কড়া ভাষায় নির্দেশ দিতে শুরু করেন পুলিশ কর্মকর্তা মসিউল আজম। বলতে থাকেন, ‘ওই যে ক্যারম খেলতেছে। আমি বন্ধ করে দিছি কিনা! কেন চলল! দেবো বসান! আমি সেদিন বাজার কমিটিকে ডেকে বলে গেছি না? তারাবির একমাস কোনো ক্যারম, কোনো টিভি চলবে না। কেন চলল?’
পরে ক্যারম বোর্ডের দিকে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি।
সেসময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আমির হামজা বলেন, ‘রমজান মাস, ইবাদতের মাস। যাই করবেন, নামাজের সময় যেন এইসব না করেন।’
এ ঘটনার পরদিন রাত ৮টার দিকে ওই বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ওই চায়ের দোকানসহ বেশিরভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কেউ কেউ প্রতিষ্ঠান খুললেও শাটার অর্ধেক নামিয়ে রেখেছেন।
বাজারের শেষ মাথায় খোলা ছিল শুধু একটি চায়ের দোকান। সেখানে টেলিভিশন চললেও বন্ধ ছিল ক্যারম খেলা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চা বিক্রেতা বলেন, ‘আমার এখানে এই কয়ডা লোকই বসে। তারা একটু টিভি দেখে।’
সেসময় ওই দোকানে আসেন স্থানীয় কাশেম মেম্বার। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ এসব বন্ধ করে দেওয়া ঠিক না। তরুণদের বিনোদন-খেলাধুলার দরকার আছে। এখানে তো টাকা দিয়ে খেলা হয় না। আমাদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও মাঝে মধ্যে খেলতে আসেন।’
এ বিষয়ে ওপর মহলের নির্দেশ ছিল দাবি করে পুলিশ কর্মকর্তা মসিউল আজম বলেন, ‘ওপরের নির্দেশেই আমরা কথা বলি। নিজে থেকে কিছু বলি নাকি!’
তবে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ‘ওই কর্মকর্তাকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’
জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিন গণমাধ্যম কে বলেন, ‘এটা কোনো পুলিশি নির্দেশনা না। রোজার দিনে চায়ের দোকান খোলা থাকবে কিনা, সেটা আইন-কানুনের বিষয় না। মানুষের অনুভূতির বিষয়, মানা না মানার বিষয়। এ জন্য আমরা তো কাউকে জেল-ফাঁস দিতে পারব না।’