কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া আরও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
৫ মাস ২০ দিন বয়সী ওই শিশুর নাম আইজা। সে কুষ্টিয়া শহরের রেনউইক মোড় এলাকার মোমিন হোসেনের মেয়ে। শিশুটির শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে গত ৩০ মার্চ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে একই ওয়ার্ডে আফরান নামের ৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ভর্তির সময় থেকেই শিশুটির অবস্থা ক্রিটিক্যাল ছিল। তার আইসিইউ সার্পোটের দরকার ছিল। আমরা শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তার পরিবার কোনো কারণে ঢাকায় নিতে পারেনি। রাতে শিশুটি মারা যায়।
কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, জেলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩০০ এর অধিক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ৭৫ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং জেলায় মোট ৩ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, হামের টিকা পর্যাপ্তভাবে পাওয়া যায়নি। সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতার ঘাটতি এবং বাইরের জেলায় কাজ করা মানুষদের ফেরার কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য সব হাসপাতালে আলাদা ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে এবং টিকা হাতে পাওয়া মাত্র দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তিনি আরওব বলেন, হাসপাতালের ওয়ার্ডে এরই মধ্যে হামের রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ শিশু ওয়ার্ডেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে। এতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকটও।