বাগেরহাটের হজরত খান জাহান আলীর (রহ.) মাজারের দীঘির ঘাটে কুমিরের আক্রমণে কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় দীঘির নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি তুলেছে বিভিন্ন প্রাণী অধিকার সংগঠন। স্থানীয় প্রশাসনও পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে কয়েকজন প্রাণী অধিকার কর্মীদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা হয় এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রশাসন। ঘটনা তদন্ত করতে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী। তদন্তে যারা দোষীস্যাবস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
গত ৮ এপ্রিল বুধবার বিকেলে বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দীঘির প্রধান ঘাটে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, দীঘির ঘাটে একটি কুকুর পড়ে আছে। আর দীঘি থেকে একটি কুমির কুকরটির দিকে সাঁতরে আসছে। কুকুরটি উঠতে চাইলে পড়ে যাচ্ছে। সিঁড়িতে উঠতে না পেরে এক পর্যায়ে পানিতে নামতে দেখা যায়। এ সময় কুমিরটি কুকুরকে আক্রমণ করে। কুকুরটির ঘাঁড়ে কামড়ে ধরে নিয়ে যায়। ভিডিওতে দীঘির ঘাটে একজন নিরাপত্তাকর্মীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া অনেক মানুষকে দীঘির পাশে দাঁড়িয়ে এই ঘটনা উপভোগ এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে দেখা যায়।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। সবচেয়ে বেশি সরব হন প্রাণীপ্রেমীরা। অভিযোগ ওঠে, কুকুরটিকে আগে আঘাত করে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরপর আহত অবস্থায় কুকুরটিকে সেখানকার নিরাপত্তাকর্মী লাথি দিয়ে দীঘির ঘাটে ফেলে দিয়েছেন।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, গত বুধবার বিকেলে মাজার এলাকায় থাকা একটি কুকুর ঘুরাঘুরি করছিল। হঠাৎ কুকুরটি মাজারে ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থীদের আচড় দেয়। এতে সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে কুকুরটিকে ধাওয়া দিলে সে দীঘির সিঁড়িতে চলে আসে। এ সময় মাজারের নিরাপত্তাকর্মী আসলে তাকেও পায়ে আচড় দেয় কুকুরটি। পরে সিঁড়িতে পা পিছলে দীঘির পানিতে পড়ে গেলে কুকুরটিকে কুমিরটি ধরে নিয়ে মেরে ফেলে।
মাজারের নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার বলেন, ‘মাজারে আসা কয়েকজন দর্শনার্থীকে কামড়ে দেয় কুকুরটি। আমি ঘাটে এসে কুকুরটিকে সরাতে গেলে কুকুরটি আমাকেও আচড় দেয়। পরে তাকে পা দিয়ে লাথি দিলে দীঘির পানিতে পড়ে যাওয়ার পর ঘাটে থাকা কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে নিয়ে কামড়ে মেরে ফেলে। ঘাটে লোক থাকলেও কেউ কুমিরের ভয়ে কুকুরটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেনি।’
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন বলেন, ‘মাজারে দীঘির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখার পর প্রশাসন বিষয়টি খোঁজখবর নিয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনাটি জেলা প্রশাসক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে তিনি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আমাকে প্রধান করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে মাজারে যেন এই ধরনের ঘটনা না ঘটে সেদিকেও প্রশাসন সজাগ থাকবে।’