কুমিরের মুখে পড়া কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল, ইচ্ছা করে দেওয়া হয়নি: তদন্ত কমিটি

বাগেরহাটের হযরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ রেবিস (জলাতঙ্কে) আক্রান্ত ছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে ‘কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ঠেলে দেওয়া’ বা ‘টোপ হিসেবে বেঁধে দেওয়া’—এ ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তদন্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্তে কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত দিঘিতে পড়ে যায় এবং সেটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল।

তিনি আরও জানান, গত ১১ এপ্রিল বিকেলে মাজার এলাকায় জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয়। বুধবার সিডিআইএল-এর প্রতিবেদন হাতে পায় জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। প্রতিবেদনে কুকুরটির জলাতঙ্কে আক্রান্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কুকুরটি একাধিক ব্যক্তিকে কামড় দিয়েছিল বলেও জানা গেছে। মাজারের নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান টিকা নিয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, সিডিআইএল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল। কুকুরটির কামড়ে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকলেও সংশ্লিষ্টরা টিকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি আরও বলেন, জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুরের কামড়ে কুমিরের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা নেই।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, কুমিরের আক্রমণে কুকুরের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্ত শেষে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল বিকেলে দিঘির প্রধান ঘাট থেকে একটি কুমির কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার প্রধান ছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন।