যশোরে কৃষিজমিতে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহারে কমছে মাটির উর্বরতা

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই কৃষিজমিতে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করছেন চাষীরা। প্রান্তিক কৃষকদের অসচেতনতা আর কোম্পানিগুলোর চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে এ পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। একদিকে মাটির উর্বরতা কমছে, অন্যদিকে ক্ষতির মুখে পড়ছে, পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্য।

যশোর সদরের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের কৃষক অনিক হোসেন। ৭ বিঘা জমিতে তার ধানের আবাদ। আগে, ফসল ঘরে তুলতে জমিতে যে পরিমাণ সার ও কীটনাশক দিতে হতো এখন তার দ্বিগুণ দিয়েও অনিক হোসেন পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত ফসল। এতে খরচ বাড়লেও বাজারে মিলছে না ন্যায্যমূল্য।

কৃষক অনিক হোসেন বলেন, ‘ব্লক সুপারভাইজার বা কৃষি অফিসের কোনো লোকজন আমাদের এখানে আসে না। পরামর্শ দেয় না। তারা যদি একটু পরামর্শ দিত, আমাগো খরচটা একটু কম হইতো।’

একই অবস্থা দেশের অন্যতম বৃহত্তম কৃষিপ্রধান জেলা যশোরের অধিকাংশ কৃষকের। চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে কৃষকদের আকৃষ্ট করলেও এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক কোনো কর্মসূচি নেই কীটনাশক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর।

স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের গুণগত মান কমার কারণে অনেকবার সার প্রয়োগ করতে হচ্ছে।’

আরেক কৃষক বলেন, ‘আমরা আগে তিন–চারবার সার দিতাম। এখন ৫ বার দিয়েও ভালো ফসল হয় না।’  

কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের কারণে কমছে মাটির উর্বরতা। হারিয়ে যাচ্ছে উপকারি পোকামাকড়ও। বলছেন কৃষি গবেষকরা। 

যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কীটনাশক কিন্তু আমাদের মানবদেহে খাদ্যের মাধ্যমে পরিবেশে আসবে। আমাদের মাছ আমাদের গবাদি পশু–পাখি, পরিবেশের যে বিভিন্ন অংশ আছে এগুলো কিন্তু অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমরা ইতোমধ্যে দেখছি। অনেক খাল–বিলে আগের যেসকল মাছ, সেগুলো কিন্তু পাওয়ায় যায় না।’

কীটনাশক আইনের ব্যত্যয় ঘটলে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস কৃষি কর্মকর্তার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রাসায়নিকের একটা নির্ধারিত মান ও মাত্রা ঠিক রাখতে হবে। প্রতিনিয়ত মনিটরিং করতেছি যে এ ধরনের কোনো সরকারিভাবে অনুমদিত পেলেই আমরা মোবাইল কোর্ট করছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। ’

কৃষিতে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ না নিলে আগামীতে কৃষিখাত, মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা কৃষিবিদদের।