বাগেরহাটে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা সম্পর্কে মা, ছেলে ও নানী। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামে তাদের নিজ বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ধারণা, অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না এবং এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

এদিকে, নিহতদের স্বজনরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিহতরা হলেন—চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের স্ত্রী মনিরা বেগম মনি, তাদের ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার এবং মনিরা বেগমের মা রাশিদা বেগম। কয়েকদিন আগে রাশিদা বেগম মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আহাদ আলী পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

নিহতের স্বজন মিমি বেগম জানান, কয়েকদিন আগে তার নানী রাশিদা বেগম মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। পরে তার খালাতো ভাই ফোন করে নানীর মৃত্যুর খবর দেন। এরপর তিনি খালা মনিরা বেগমকে একাধিকবার ফোন করলেও গত তিন দিন ধরে কোনো সাড়া পাননি।

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে দেখি নানীর মরদেহ এক কক্ষে পড়ে আছে। আরেক কক্ষে খালামনির মরদেহ খাটের নিচে এবং খালাতো ভাই আহাদের মরদেহ খাটের ওপর পড়ে ছিল। তাদের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল কি না বা কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা বলতে পারছি না। ঘরে টাকা-পয়সাও ছিল। তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, খবর পেয়ে জেলা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।’