নেত্রকোণার মদনে আগুনে পুড়িয়ে এখলাছ উদ্দিনকে হত্যা মামলার আসামি স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ময়মনসিংহের সানকিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—এখলাছের স্ত্রী মুক্তা আক্তার (২৮) ও শাশুড়ি লুৎফুন্নেছা (৫৩)। মুক্তা মদন উপজেলার সুতিয়ারপাড় গ্রামের খাইরুল ইসলামের মেয়ে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ এর উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুজনকে মদন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
মামলায় বলা হয়, গত ১৪ নভেম্বর শ্বশুর বাড়িতে এখলাছের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেয় স্ত্রী, শ্বশুর–শ্বাশুড়িসহ অজ্ঞাত আরও ৪ জন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। সেখানে ১৯ নভেম্বর মারা যান তিনি।
ঘটনার পরপর আসামিরা সবাই পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার এখলাছের চাচাতো ভাই কসিম উদ্দিন মদন থানায় মামলা করেন।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান বলেন, ‘৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে মুক্তা আক্তারকে বিয়ে করেন এখলাছ উদ্দিন। বিয়ের কিছুদিন পরেই তিনি মালেয়েশিয়া চলে যান। সেখান থেকে আবার সৌদি আরব যান। বিদেশ থাকা অবস্থায় তাঁর আয়ের টাকা স্ত্রীকেই পাঠাতেন। দেশে ফেরত আসার পর এই টাকা নিয়ে স্ত্রী, শ্বশুর–শ্বাশুড়ির সাথে বিরোধ বাধে। এর জেরে এই হত্যাকাণ্ড হয়।’