নেত্রকোণায় একলাছ মিয়া (৩৮) নামে এক যুবকের গায়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে বারইবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী একলাছ মিয়ার পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুর বাড়িতে গেলে কথা–কাটাকাটির জেরে একলাছের স্ত্রী তাঁর গায়ে আগুন দিয়েছেন। এরপর প্রথমে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
একলাছ মিয়ার বড় ভাই মো. আনিসুল মিয়া বলেন, ‘আমার ভাই সৌদি প্রবাসী ছিলেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে সে বাংলাদেশে ফিরে আসে। পাঁচ মাস আগে তাঁর স্ত্রী মুক্তা বেগম কাউকে কিছু না বলে আমাদের বাড়ি থেকে ভাইয়ের টাকা–পয়সা ও গয়না নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যায়। আমরা বেশ কয়েকবার বিষয়টি নিয়ে মুক্তার পরিবারের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’
আনিসুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল রোববার আমার ছোট ভাই তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যায়। সেখানে আজ সকালের দিকে তাঁর স্ত্রীর সাথে কথা–কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে স্ত্রী তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে ময়মনসিংহ সদরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি আমাদের জানায়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যার দিকে আমার ভাইকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্নে নিয়ে আসি।’
আনিসুল আরও বলেন, ‘এখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আমার ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমাদের অভিযোগ, আমার ভাইয়ের স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের লোকেরা মিলেই আমার ভাইয়ের শরীরে আগুন দিয়েছে।’
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সন্ধ্যার দিকে নেত্রকোণা থেকে দগ্ধ অবস্থায় একলাছ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁর শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।’



