নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মানু মজুমদারকে চোখের জলে চিরবিদায় জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন, শুভাকাংখী ও সহযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষ। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার পাঁচগাও এলাকার রামনাথপুর গ্রামের বাড়ির শ্মশাণে তাঁর অন্তোষ্টিক্রিয়া করা হয়।
আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য ও নেত্রকোণা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অসিত সরকার সজল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিমানযোগে ভারত থেকে দেশে আসে এই সংসদ সদস্যের মরদেহ। আজ বিকেল ৩টার দিকে নেত্রকোণা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মরদেহ নেওয়া হয় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্যে। সেখানে মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাক আহমেদ রুহী, জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অসিত সরকার সজল, পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুর রহমান লিটন, জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মো. শামছুজ্জোহা, জেলা আওযামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহ, জেলা প্রেসক্লাব, বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। এসময় আওয়ামী লীগ দলীয় নেতারা ও সহযোদ্ধারা প্রয়াত মানু মজুমদারের জীবনের নানাদিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।
শহীদ মিনারে প্রায় দেড়ঘণ্টা শ্রদ্ধা জানানো শেষে মরদেহ নেওয়া হয় কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে। সেখানে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সেখান থেকে নেওয়া হয় রামনাথপুরের নিজের বাড়িতে।
গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মানু মজুমদারের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অসিত সরকার সজল। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার ঢাকার বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন ৭২ বছর বয়সি মানু মজুমদার। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ভারতের বেঙ্গালুরুর নারায়ণা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সেসে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।’
মৃত্যুকালে মানু মজুমদার স্ত্রী ক্যামেলিয়া বিশ্বাস ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার দুই মেয়ের একজন কানাডা ও অন্যজন পর্তুগালে পড়াশোনা করে।
মানু মজুমদার নেত্রকোণা-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাসের আপন ভগ্নিপতি। তিনি উপজেলার পাঁচগাঁও এলাকার রামনাথপুর গ্রামে বাড়ি করেন। ঢাকার পাশিাপাশি তিনি সেখানেও বসবাস করতেন।
আওয়ামী লীগ নেতা মানু মজুমদার ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করে গ্রেপ্তার হন। পরে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১০ বছর জেল খেটে ১৯৮৫ সালে কারামুক্ত হন তিনি।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানু মজুমদার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোণা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।