নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে পৃথক দুই স্থানে ও কেন্দুয়ায় এক স্থানে গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ালে নারীসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছে। বুধবার দুপুরে খালিয়াজুরীর পাঁচহাট, লক্ষীপুর গ্রামে এবং কেন্দুয়ায় বলাইশিমুল ও ছবিলা গ্রামের মধ্যে এসব সংঘর্ষ হয়।
আহতদের মধ্যে খালিয়াজুরীর পাঁচহাট গ্রামের সালাম মিয়া (৬২) ও মোস্তাকিম মিয়ার (২৭) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও একই গ্রামের সোগেরা আক্তার (২৪), পায়েম (৩২) ও শামীম চৌধুরীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে একই উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের সংঘর্ষে আহতরা হলো- আক্তার মিয়ার ছেলে ইমরান (৩২), আলু মিয়া (১৮), আক্তারের স্ত্রী ইদুমা (৫২), মুকশেদ মিয়ার ছেলে, মুন্না (২২), মেহেদি হাসান (২৫), জালাল মিয়ার ছেলে রহমতুল্লাহ (১৮) ও মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে জালাল মিয়া (৬০)। দুই গ্রামের আহতদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এ কে ফজলুল হক।
কেন্দুয়ায় সংঘর্ষে আহতদের নামপরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
পাঁচহাট গ্রামের সংঘর্ষ নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী গাজীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুন মিয়া বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রামের শফিকুল মিয়া বস্তা ফেলে গ্রামের একটি রাস্তা বন্ধ করছিলেন। এ নিয়ে গ্রামবাসীর আপত্তি ছিল। রাস্তা বন্ধ না করতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও নিষেধ করা হয়। এ অবস্থায় আজ দুপুরে শফিকুলের লোকজনের সঙ্গে গ্রামের অন্যদের সংঘর্ষ হয়। এসময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৩৪ জন আহত হয়।’
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর গ্রামে সাউন্ড বক্স দিয়ে উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে জালাল মিয়া ও আক্তার মিয়ার ছেলেদের মধ্যে বিবাদ হয়। জালাল মিয়ার ছেলেরা পাশের বাড়িতে রাত ১০টার দিকে সাউন্ড বক্স বাজাতে থাকলে আক্তার মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া বাধা দেন। এ নিয়ে বাগ–বিতণ্ডার এক পর্যায়ে আক্তার মিয়ার ছেলে জালাল মিয়াকে মারপিট করলে জালাল মিয়া আহত হন। তাঁকে তখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর জেরে আজ দুপুরে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘এই দুই সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠানো হয়। এখন দুই গ্রামেই শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।’
এদিকে কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুপুরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে উপজেলার বলাইশিমুল ও ছবিলা গ্রাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে ২০ জনের মত আহত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে আহতদের। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’