জামালপুর-টাঙ্গাইল-শেরপুর মহাসড়ক দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। আজ বুধবার সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জামালপুর শহরের দড়িপাড়া এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলার পরিবহন নেতারা।
জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখওয়াতুল আলম শুভ বলেন, ‘গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে মেলান্দহ থেকে জামালপুরে ফেরার পথে ভাড়ায়চালিত একটি প্রাইভেট কারের সাথে লিয়ন নামের এক ব্যক্তির প্রাইভেট কারের সংঘর্ষ হয়। এতে লিয়নের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে ক্ষতিপূরনের দাবিতে লিয়ন ভাড়ায়চালিত গাড়িটি আটকে রাখে। ১২ দিন যাবত গাড়িটি আটকে আছে এবং বেকার বসে আছে এর চালক। এমন ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই আমরা। কারণ কোনো চালক কখনো ইচ্ছা করে এক্সিডেন্ট করে না। এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা।’
বক্তব্যে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট কারটি ফেরত চায় এবং গাড়ি আটকে রাখার কারণে লিয়নকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এছাড়াও গাড়িটি এতদিন বসে থাকার কারণে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা লিয়নকে দিতে হবে।’
টানা দেড় ঘণ্টা অবরোধের কারণে শেরপুর ও টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন এই পথে চলাচলকারীরা।
অবরোধে আটকে থাকা সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘এসব আন্দোলনের কারণে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি বা প্রয়োজন থাকতে পারে। কিন্তু এভাবে সড়ক অবরোধ করে এসব জানানো বা আদায় করা ঠিক না। এতে সাধারণ জনগনের দুর্ভোগ হয়।’
অভিযুক্ত খায়রুল ইসলাম লিয়ন জামালপুর জেলা যুবদলের সদস্য ও জেলা রেড ক্রিসেন্টের সাধারন সম্পাদক। মোবাইল ফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে লিয়ন বলেন, ‘যে গাড়ির সাথে সংঘর্ষ হয়েছে। সেই গাড়ির মালিক খোকন নামে এক ব্যক্তি। আমি সেই গাড়ির মালিক না। যখন ঘটনাটি ঘটে তখন আমি সেই গাড়িতে ছিলাম। পরে খোকন ভাড়ায় চালিত গাড়িটি আটকে দেয়। আমি এসবের সাথে জড়িত না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আমার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। আমি প্রশাসনকে বিষয়টি জানাব।’
জামালপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। আমরা দুই পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করব। এই কারণে যাতে আর কোনো অবরোধ না হয় সেই বিষয়টি আমরা নজড়ে রাখব।’