জামালপুরের ইসলামপুরে দুই গ্রাম পুলিশসহ চারজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ড বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার কুলকান্দি পাইলিংপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার ইসলামপুর থানায় এ সংক্রান্ত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীরা হলেন উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ জগেশ্বর রবিদাস (৫২) ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ রবিচান রবিদাস (৩০), জগেশ্বরের স্ত্রী লাকী রানী রবিদাস (৪৫) ও তাঁর ছেলে নগেন বাবু (২৩)।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কুলকান্দি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাসেন আলী (৬০) মাদক ও জুয়ায় আসক্ত। জগেশ্বর রবিদাস ওই বিএনপি নেতাকে মাদক সেবন করতে নিষেধ করেন। এর জের ধরে শুক্রবার রাতে রবিদাসের বাড়িতে এসে হামলা করেন হাসেন আলী। এ সময় রবিদাসের স্ত্রী লাকী রানীকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সরে যান। এ সময় জগেশ্বরের ছেলে নগেন ও আরেক গ্রাম পুলিশ রবিচানও আহত হন। তাঁদের ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বিএনপি নেতা হাসেন আলী, তাঁর দুই ছেলে ইমান আলী ও সুমন এবং স্ত্রী রেহানা বেগমের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসেন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তাঁর সাথে তর্কাতর্কি হয়েছে। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। একজনের সাথে তর্ক বেঁধে গেলেই যে থানায় অভিযোগ দেবে, এটা কেমন কথা। আপনারা যা পারেন করেন।’
এ বিষয়ে কুলকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূর ইসলাম বলেন, ‘যে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে, সে আমার বাবা হলেও আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমি কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। যদি সমাধান না হয়, তবে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। প্রয়োজন পড়লে হাসেন আলীকে বহিষ্কার করা হবে।’
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাইয়ূম গাজী বলেন, ‘আগামীকাল একজন কর্মকর্তা বিষয়টির তদন্তে যাবেন। এরপর ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’