তেল সংকট সমাধানে শেরপুরে নতুন উদ্ভাবন, মোটরসাইকেল চলছে এলপি গ্যাসে

দেশজুড়ে তেল সংকটের মাঝে মোটরসাইকেলে বিকল্প সমাধান দিচ্ছেন শেরপুরের এক উদ্যোক্তা। দেশি প্রযুক্তিতে মোটরসাইকেলকে এলপিজিতে রূপান্তর করছেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাবিব ওয়ার্কশপেই দিন-রাত চলছে মোটরসাইকেলের এলপিজি কনভার্সন। এলপিজিতে মোটরসাইকেল চালানোয় ফিলিং স্টেশনে লাইন ধরে তেল নেওয়ার ভোগান্তি বন্ধের পাশাপাশি খরচও কম, বলছেন চালকেরা।

দেশজুড়ে তেল সংকটে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলসহ যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। এর মাঝে শেরপুরের চালকেরা পেয়েছেন বিকল্প সমাধান। অকটেন-পেট্রোলে চালিত সব মোটরসাইকেল এলপিজিতে রূপান্তর করছে হাবিব মোটরস।

জেলা সদরের আখের মাহমুদ বাজারে চলছে কনভার্সন। টাঙ্গাইলে মেকানিকের কাজ শিখে পরে শেরপুরে মোটর ওয়ার্কশপ চালু করেন হাবিবুর রহমান হাবিব। এলপিজি সিলিন্ডার ও কিট ব্যবহার করে বিশেষ পদ্ধতিতে মোটরসাইকেল কনভার্সন করছেন তিনি। ১০০ টাকার এলপিজিতে বাইক চলছে ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার। আর গ্যাস ফুরিয়ে গেলে পেট্রোল বা অকটেন দিয়েও চালানো যাচ্ছে আগের মতোই।

প্রকৌশল উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, চালকেরা অকটেন নিতে দুই থেকে তিন দিন অপেক্ষা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। সমস্যা সমাধানে তাই তারা মোটরসাইকেলে এলপিজি ব্যবহারে ঝুঁকছেন। ওয়ার্কশপে এসে তারা বিশেষ পদ্ধতিতে মোটরসাইকেল কনভার্সন করছেন।

একটি মোটরসাইকেল এলপিজিতে রূপান্তরে খরচ পড়ছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। তেল সংকটের মাঝে স্বল্প খরচে বেশি মাইলেজ পেতে এলপিজিতে রূপান্তরে আগ্রহী হচ্ছেন চালকেরা। 

মোটরসাইকেল চালকেরা বলছেন, তিন-চারদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে একবার তেল পাওয়া যায়। এভাবে চলা যায় না। প্রতিদিনই কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয়, বাহনে তেলও লাগে। সমাধানে তাই অনেকেই মোটরসাইকেল মোটরসাইকেল কনভার্সন করছেন।

এলপিজি করাতে শেরপুর ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে আসছেন বাইকারেরা। তবে রূপান্তরের বিষয়ে সরকারের অনুমোদন নেওয়া এবং নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।