হাসপাতাল থেকে নার্সের বাসায় নিয়ে গর্ভপাতের অভিযোগ, প্রাণ গেল গৃহবধূর

শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি এক গৃহবধূকে একই হাসপাতালের নার্সের বাসায় নিয়ে গর্ভপাত করানোর পর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গৃহবধূর নাম লাবনী বেগম। তিনি শেরপুর পৌরসভার কসবা এলাকার ফল ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানের স্ত্রী। ওই গৃহবধূর মৃত্যুর খবরের পর থেকে নার্স চম্পা বেগম পলাতক আছেন। 

হাসপাতাল সূত্র ও স্বজনেরা জানান, লাবনীকে শারিরীক অসুস্থতার কারণে ৬ মে রাত ১১টার দিকে শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে তার স্বজনেরা। পরে দালালদের সহযোগিতায় ওই রোগীকে জেলা হাসপাতালের কর্মরত নার্স চম্পার নারায়নপুর এলাকার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ডিএনসি করে নার্স চম্পা নিজে। পরে অতিরিক্ত রক্তপাতে লাবনীর মৃত্যু হয়।
 
লাবনীকে ৭ মে রাতে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর থেকে জেলা হাসপাতালে মধ্যরাত পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করে। অবস্থা খারাপ বুঝতে পেরে পালিয়ে যায় নার্স চম্পা। 

লাবনীর স্বামী সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমার স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য চম্পা নার্স দায়ী। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

হাসপাতালে আসা ফাতেমা বেগম নামে এক নারী জানান, ‘এ রোগীটাকে কয়জন দালাল আর নার্সরা মিলে বের করে আনে। মেয়েটারে তারা খুন করছে।’
 
শেরপুর জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের সদস্যের স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে নার্স চম্পা দালালদের মাধ্যমে তার বাসায় নিয়ে মেরে ফেলেছে, আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাবিদ আঞ্জুম সিয়াম জানান, রোগী লাবনী ৬ মে রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরে বৃহস্পতিবার সকালে কাউকে না বলে হাসপাতাল থেকে তাকে নিয়ে যায়। পরে রাতে তাকে মৃত অবস্থায় আবার হাসপাতালে আনা হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের নার্স জড়িত থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
এদিকে লাবনীর পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে। শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।’