শেরপুরে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব যেন থামছেই না!

শেরপুর সীমান্তে কিছুতেই থামছে না হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব। সন্ধ্যা নামলেই গহীন বন থেকে লোকালয়ে চলে আসছে বন্যহাতির দল; সাবাড় করছে ফসল। ঘরবাড়ি রক্ষায় মশাল ও ঢাক-ঢোল নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে সীমান্তবাসীর। স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ চান স্থানীয়রা।

শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীর সীমান্তজুড়ে বন্যহাতির আতঙ্ক। চলতি বোরো মৌসুমে শতাধিক হাতির দল হানা দিচ্ছে ধান ক্ষেত ও সবজি বাগানে। মাড়িয়ে আর খেয়ে সাবাড় করছে বিঘা বিঘা জমির ফসল। এতে দিশেহারা গারো পাহাড়ের সীমান্তবাসী।

গত ৩০ বছর ধরে এই দ্বন্দ্বে প্রতি বছরই প্রাণ হারাচ্ছেন কৃষক, আবার কখনও মারা পড়ছে হাতিও। মশাল জ্বালিয়ে কিংবা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা চললেও, তেল সংকটে জেনারেটর বা সার্চ লাইট চালাতে না পেরে বিপাকে স্থানীয়রা।

শেরপুর সাঈনের নির্বাহী পরিচালক মুগনিউর রহমান মনি বলেন, ‘পাহাড়ে আবাসন ও খাদ্য সংকটই হাতিদের লোকালয়ে টেনে আনছে। বন্যপ্রাণীদের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি ও অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করতে হবে।’

ময়মনসিংহ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক এসবি তানভীর আহমেদ ইমন বলেন, ‘সংকট সমাধানে নিয়মিত কাজ করছে বন বিভাগ। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য জানান, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংসদে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হচ্ছে।

শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ‘মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে সরকারিভাবে স্থায়ী পদক্ষেপ নেব।’

বন বিভাগ জানিয়েছে, হাতির আক্রমণে নিহতের পরিবারকে ৩ লাখ এবং ফসলের ক্ষতির জন্য ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। তবে সীমান্তবাসীর চাওয়া ক্ষতিপূরণ নয়, বরং গহীন বনেই নিরাপদ থাকুক হাতি আর লোকালয়ে শান্তিতে থাকুক মানুষ।