ভারত থেকে আসা হাতি নষ্ট করছে ফসল-ঘরবাড়ি

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাটে বন্য হাতির তাণ্ডবে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি। আবাসস্থল হারানো হাতির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার পাশাপাশি নিজেদের জীবন বাঁচাতে নির্ঘুম রাত পার করছেন সীমান্তের মানুষজন। হাতি–মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণে সহায়তার দাবি ভুক্তভোগীদের। 

সম্প্রতি ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের কয়েকটি গ্রামে আসে ২৫ থেকে ৩০টি হাতি। খাবারের সন্ধানে মানুষের বাড়ি-ঘরে হামলা চালায়। এতে ফসল হারিয়ে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন মানুষজন।

হাতির আক্রমণ প্রতিরোধে রাত-দিন পহারা দিচ্ছেন পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না বনবিভাগ।

ময়মনসিংহ বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদ ড. মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘আবাসস্থল কমে আসায় লোকালয়ে চলে আসছে বন্য হাতি। ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রকৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হাতিকে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন।’

ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করীম বলেন, ‘ক্ষতি কমাতে বিশেষ প্রকল্প বাগানের কথা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকার কাজ করছে।’

২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় হাতির আক্রমণে মারা গেছে ৪৮ জন। আর মানুষের আক্রমণে ৩৫টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ১শ ৩৩ জনকে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা  ক্ষতিপূরণ দিয়েছে সরকার।