ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাদে হঠাৎ করেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার কুন্ডলিতে ছেয়ে গেলে আতঙ্কিত হয়ে এদিক-সেদিক ছুটতে থাকে রোগীসহ স্বজনরা। ঘটনার পর পদদলিত হয়ে কয়েকজনের নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, এতে পদদলিত হয়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে দু-একজনের মৃত্যুর খবর বলা হয়েছে, যাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যায় হাসপাতালের বিল্ডিংয়ে থাকা সবগুলো ওয়ার্ড। এতে অন্তত ২০ জন হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনের ঘটনায় যারা আতঙ্কিত হয়ে বেরিয়ে পড়েছেন, তাদের ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এবং বিভাগীয় কমিশনার বিভাগীয় হুমায়ুন কবির। তারা সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় পদদলিত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। দুজনের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন, যাদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে এসেছে তাদের মধ্যে একজন জীবিত। বাকি চারজনের মধ্যে দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বাকি দুজনের মৃত্যুর কারণ চিকিৎসকরা আমাদের এখনও বলতে পারেননি। তবে নিউজে যেটা আসছে পদদলিত হয়ে ছয়জন মারা গেছে–এইটা অসত্য একটা ঘটনা।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পদদলিত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন।’
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।’