জয়পুরহাট জেলার কালাই,ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন জয়পুরহাট-২। পূর্বে এ আসনটি বিএনপি’র দখলে থাকলেও গত প্রায় ১৫ বছরে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে। বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। এবার এ আসনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর। তবে জাতীয় পার্টিসহ মোট ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন নির্বাচনী মাঠে।
জয়পুরহাট-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৯০ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৯৮ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ১ জন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত একটানা এ আসনটি দখলে রাখে বিএনপি। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারো লাভ করেছেন দলীয় মনোনয়ন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধূরী অবসর। আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীসহ নির্বাচনী মাঠে সর্বমোট ৮ জন থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের মধ্যে।
এক সময়ে হুইপের একান্ত আস্থাভাজন হলেও সম্পর্ক ফাটল ধরায় গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনী মাঠেও আওয়ামী লীগের এই স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নৌকার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সাথে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তার বক্তব্যে এ আসনটিতে আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব বেশ স্পষ্ট।
গোলাম মাহফুজ অবসর চৌধুরী বলেন, 'আমি দলীয় সিদ্ধান্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি, আমার যিনি প্রতিদ্বন্দ্বী তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য, তাঁর বাড়ি এ আসনে নয়, তাঁকে এ এলাকার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর জনপ্রিয়তা এখন শুন্যের কোঠায়, মানুষ ৭ তারিখে ভোটের মাধ্যমে তাঁকে প্রত্যাখান করার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁকে এ এলাকা থেকে বিদায় করে তাদের ঘরের ছেলে আমাকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বচিত করবেন। তিনি নিরুপায় হয়ে তাঁর সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমার ও আমার কর্মীদের ওপড় হামলা-মামলা ও নির্যাতন করে যাচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে আমার কর্মীদের নিরাপত্তা চাই, তারা নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে জেলা প্রশাসকের অফিসে নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিব।'
তবে এসব অভিযোগ আমলেই নিচ্ছেন না আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। বিগত সময়ের দৃশ্যমান উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ঘুরছেন জনতার দ্বারে দ্বারে। তাঁর মাধ্যমে এলাকায় সরকার যে উন্নয়ন করেছে, এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে জনতা তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি। এ ছাড়া শত ভাগ সুষ্ঠু নির্বাচনে তাঁর সহযোগিতাও থাকবে বলে জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও এ আসনের নৌকার প্রার্থী আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, 'নির্বাচন নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে আমার দায়িত্ব থেকে শত ভাগ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার সহযোগিতা করে যাচ্ছি এবং যাব। আমার নেতাকর্মীদেরও সংযত হবার ক্ষেত্রে শতভাগ আন্তরিক রয়েছি। আরো আশ্বস্থ করতে চাই, দেশের প্রথম যে ১০টি আসনে সর্বাত্মক ভোট পরবে, তারমধ্যে জয়পুরহাট-২ আসন থাকবে, আশা করি সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে যাবেন এবং বিগত সময়ের ব্যাপক উন্নয়নের কারণে সাধারণ মানুষ দয়া করে আামাকে নৌকা মার্কায় তাদের ভোট দিবেন।'
নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার মধ্যে এ দু জন প্রভাবশালী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ঘটেছে একাধিক সংঘর্ষেও ঘটনা। এতে ভোটাররা খানিকটা আতঙ্কিত বলে বলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশ্বাস চান প্রশাসনের কাছে।
একজন ভোটার বলেন, 'আমরা বাবা শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ, সব দলের অংশ গ্রহণে ভোটটা যেন শান্তিপূর্ণ হয়, আমরা যেন ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যেতে পারি।'
আরেক ভোটার বলেন, 'আগামী নির্বাচনে আমরা যেন ভোট দিতে পারি, ভোট যেন শান্তিপূর্ণ হয়। আমরা সাধারণ মানুষ, তেমন কিছুই চাই না, ভোটের ও ভাতের অধিকার চাই।'
সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশসাক সালেহীন তানভীর গাজী।
এ দিকে আসনটিতে জাপা’র অবস্থান খানিকটা দুর্বল হলেও আওয়ামী লীগের দু’জন প্রার্থীওর মধ্যে চরম কোন্দলের সুযোগ নিতে পারে জাপা। এ ছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরা থাকলেও তাঁদের প্রচার-প্রচারণা রয়েছে খুবই সীমিত আকারে। কার ঘরে যাবে বিজয়ের আনন্দ তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকার শান্তিপূর্ণ ভোটাররা।