পেঁয়াজের দাম আবারো লাফিয়ে বাড়ছে। দেশি জাতের পেঁয়াজের দর উঠেছে কেজিতে ১২০ টাকা পর্যন্ত। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করতে না পারলে পেঁয়াজের দাম কমবে না। ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মনে করেন তাঁরা।
পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, বাজারে এখন মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। এটি মাস দেড়েক আগে বাজারে আসতে শুরু করে। এই জাতের পেঁয়াজের বেশির ভাগই মাঠ থেকে ইতোমধ্যে তোলা হয়ে গেছে। ফলে সরবরাহ কমছে, বাড়ছে দাম। তবে মাসখানেকের মধ্যেই হালিকাটা জাতের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করবে। তখন দাম কমে আসবে বলে মনে করেন পেঁয়াজ চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুরাতন বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী শাহজামাল বলেন, ‘দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ কমতে থাকায় দাম কিছুটা বাড়তির দিকে। আমদানি করা পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো থাকলে দাম খুব বেশি বাড়ত না। কাজেই বাজার স্থিতিশীল রাখতে পেঁয়াজ আমদানির কোনো বিকল্প নেই।’
আমদানিকারকরাও জানিয়েছেন একই তথ্য। তাঁদের মতে প্রতিবেশী ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে এখনো। কবে নাগাদ আবার রপ্তানির অনুমতি দিবে সেটাও অনিশ্চিত। এ অবস্থায় বিকল্প বাজার থেকেও পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানিকারক আবুল হাসনাত দুরুল বলেন, ‘ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরাও বলতে পারছেন না কবে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেবে ভারত সরকার।’
যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) পেঁয়াজ আমদানির আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। ভারত অনুমতি দিলেই আমদানি শুরু হবে।
দেশের অন্যতম আমদানিকারক মনিরুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘যে যা-ই বলুক না কেন আমদানি ছাড়া পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। এখনই আমদানির করতে না পারলে রমজান মাসে আরও বেড়ে যাবে পেঁয়াজের দাম। কারণ দেশি পেঁয়াজ প্রায় শেষের পথে। নতুন পেঁয়াজ উঠতে আরও সময় লাগবে।’
মনিরুল ইসলাম মানিক আরও বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক ভারতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তাঁরাও রপ্তানি নিষেধজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না।’ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনও মনে করেন পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘শুধু ভারত থেকেই নয়, অন্য দেশ থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে।’