৫৭ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন কনস্টেবল আব্দুস ছামাদ

পাসের খবর জানার পর ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে আব্দুস ছামাদকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীতকনস্টেবল আব্দুস ছামাদ। আর মাত্র ২ মাস পর অবসর জীবন শুরু করবেন তিনি। তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছেন ৫৭ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে। 

এ বছর ছামাদ কারিগরি বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ– ৪ দশমিক ২৫ পেয়ে পাস করেছেন। তিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আশরাফপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত আছেন। 

রোববার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পুলিশ সদস্য আব্দুস ছামাদের এ সাফল্যের কথা জানা যায়। 

বগুড়া পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), সুদীপ কুমার চক্রবর্তী তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছামাদকে অভিনন্দন জানান। 

সেখানে পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, জেলা পুলিশ বগুড়ার জন্য অনন্য আনন্দের উৎস ৫৭ বছর বয়সে কারিগরি শাখা থেকে জিপিএ ৪ দশমিক ২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ বগুড়ার ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল আব্দুস ছামাদ।

কনস্টেবল আব্দুস ছামাদ। ছবি: সংগৃহীতখোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৭ সালের ১০ অক্টোবর পুলিশ বিভাগে চাকরি পান। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান ছামাদের আরও দুই ভাই ও এক বোন আছেন। তাই পরিবারের হাল ধরতে সেই সময় অষ্টম শ্রেণি পাস করেই তিনি পুলিশে যোগদান করেন। পরে, কর্মস্থলের ব্যস্ততায় আর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়নি। তবে, চাকরির শেষ সময়ে এসে স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের ইচ্ছে আর লক্ষ্য পূরণ করেন। 

আব্দুস ছামাদের এসএসসি পাসের খবর জানার পর তার কর্মস্থল ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়েছে। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার তাঁকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানিয়ে মিষ্টিমুখ করান।

এ বিষয়ে কথা হয় আব্দুস ছামাদের সঙ্গে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই মাস হলো বগুড়ায় বদলি হয়ে এসেছি। এর আগে পাবনার ঈশ্বরদীর ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ছিলাম। সেখানে থাকা অবস্থায় নাটোরের লালপুরের একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। সেখান থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিই। অবসরের পর হোমিও চিকিৎসা নিয়ে পড়ার ইচ্ছার আছে।