সিরাজগঞ্জ যমুনা নদীর পানি বাড়তে থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে জেলার পাঁচটি উপজেলার ২৫ ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে শনিবার সকালে শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও কাজিপুরের মেঘাই ঘাট পয়ন্টে ২৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, পানি আরও দুই–তিনদিন বাড়বে। এতে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে সিরাজগঞ্জের সদর, কাজিপুর, চৌহালী, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানি উঠেপরায় এসব এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধ রাখা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব বাঐতারা গ্রামের আবু হানিফ বলেন, ‘গত কয়েক দিনে পানি বাড়ার ফলে বাড়িঘড় তলিয়ে গেছে। পানির মধ্যে কষ্টে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি, এর মধ্যে রয়েছে সাপের ভয়। রাস্তাঘাট বাজার সব জায়গায় পানি। প্রতিবছর বর্ষা আসলেই এমন হয়।’
তাঁত ব্যবসায়ী হযরত আলী বলেন, ‘পানি বাড়ার ফলে আমাদে র তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। আমার ১৭টি, ছোট ভাইয়ের ১৪টি তাঁত বন্ধ। আগামী সোমবার শ্রমিকদের সাপ্তাহিক বেতন দিতে হবে। কী দিয়ে কী করব বুঝতেছি না। এলাকার সবারই একই অবস্থা।’
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বন্যার পানি প্রতিদিনই অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বিপৎসীমার ৭০-৮০ ফুট ওপর উঠে যাবে। যদিও পানি ৭-৮ তারিখ পর্যন্ত বাড়বে। এর মধ্যে বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে বন্যা মোকাবিলার সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যার আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘মেডিকেল টিম গঠন, খাদ্য মজুত, গবাদি পশু ও শিশুর খাদ্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে চাল বরাদ্দ পেয়েছি। আসন্ন বন্যা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।’