নওগাঁয় জায়গা-জমি ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ২১ দিন পর মারা গেছেন সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল মজিদ (৫০)। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নিজ বাড়ি নওগাঁ সদরের সাহাপুর গ্রামে মারা যান তিনি। আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ আব্দুল মজিদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন নওগাঁ সদর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এর আগে গত ২ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে শহরের ইয়াদ আলীর মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলার শিকার হন তিন ভাইসহ বিএনপির চার নেতা-কর্মী। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় শাটারগান ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে। এ ঘটনায় আরিফ দেওয়ানসহ এজাহারভুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বায়েজিদ হোসেন পলাশ বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বোয়ালিয়া ইউনিয়নের সাহাপুর এলাকায় মোহাম্মদ আলী নামে আওয়ামী লীগের এক ক্যাডারের অবৈধ দখলে থাকা এক জমি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য আব্দুল মজিদ সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জেরে গত ২ নভেম্বর রাতে বোয়ালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেলে করে তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে আব্দুল মজিদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে আসেন মোহাম্মদ আলী। আব্দুল মজিদকে দেখা মাত্রই তাঁর বাম কাঁধে গুলি করেন মোহাম্মদ আলী। তাৎক্ষণিক আব্দুল মজিদের দুই ভাই কাবিল হোসেন ও শফিকুল ইসলাম এগিয়ে আসলে তিন ভাইকেই রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালানোর চেষ্টা করে হামলাকারীরা। ওই মুহূর্তে হামলাকারীদের বাঁধা দিতে গেলে কুপিয়ে আহত করা হয় স্থানীয় বিএনপি নেতা সুবিদ আলীকেও। এরপর স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে মোটরসাইকেল ও হামলায় ব্যবহৃত দেশি পিস্তল ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী। ওসি জানান, ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে আশঙ্কাজনক অবস্থ্যায় আব্দুল মজিদসহ তার দুই ভাই কাবিল হোসেন (৩০) ও শফিকুল ইসলামকে (৪৮) বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল থেকে আব্দুল মজিদ গত শনিবার তার বাড়িতে আসেন। বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেওয়া অবস্থায় সোমবার অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান আব্দুল মজিদ।
ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে গুলিবিদ্ধ অথবা হামলার কারণে মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করা হলে এটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। এই হামলার ঘটনায় থানায় থানায় মামলা হয়েছে। এছাড়া এরই মধ্যে এজারহারভূক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।