নামাজরত বাবাকে কুপিয়ে মারল মাদকাসক্ত ছেলে 

‎পাবনা সদরের চরতারাপুর ইউনিয়নে নামাজরত অবস্থায় নিজাম প্রামানিক (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে তাঁর মাদকাসক্ত ছেলে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পরে অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছে সদর থানা পুলিশের তিন উপ–পরিদর্শক (এসআই)। ‎

রোববার রাত ৮টার দিকে চরতারাপুর ইউনিয়নের পুরাতন ভাদুরডাঙ্গীতে এ ঘটনা হয়। অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত নিজাম প্রামাণিক ওই এলাকার মৃত ইন্তাজ প্রামানিকের ছেলে। তিনি কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অভিযুক্ত ছেলে মোস্তফা প্রামাণিকও বাবার সঙ্গে কৃষি কাজ করতেন। তবে তিনি মাদকাসক্ত।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত নিজাম প্রামানিক নতুন বাজারে দুধ বিক্রি করে সন্ধ্যার পর বাড়িতে ফেরেন। তিনি খাওয়া-দাওয়া শেষে এশার নামাজে দাঁড়াতেই দরজা আটকিয়ে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন ছেলে। এরপর পাশের কক্ষ আটকে সেখানে বসে থাকে ছেলে। বাড়ির লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘরে গিয়ে দেখে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এবং অভিযুক্ত ছেলেকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধারসহ অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
‎আটকের সময় অভিযুক্তের ছুরিকাঘাতে সদর থানার তিন এসআই আবু বকর সিদ্দিক, জিয়াউর রহমান ও আবু রায়হান আহত হন। এসআই জিয়াউর রহমানকে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নিহতের অন্য ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, ‘মোস্তফা আমার বাবাকে নামাজরত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমরা খাওয়া–দাওয়া শেষে রুমে শুয়ে ছিলাম। এমন সময় রুম আটকিয়ে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে সে। এর আগে সে আমাকেও মেহগনি ঢাল দিয়ে মারাত্মক আহত করেছিল।’ ‎

‎মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘সে (মোস্তফা) মাদকের জন্য প্রায়ই বাবা ও আমাদের কাছে টাকা চাইত। না দিলেই বাড়িতে ভাঙচুর চালাতে। তাকে এখনই ফাঁসি দেওয়া হোক।’

পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।’